shono
Advertisement
Firhad Hakim

কোভিড থেকে আমফান, মহাসংকট মোকাবিলার খতিয়ান দিয়ে কোথায় আক্ষেপ রয়ে গেল প্রাক্তন মহানাগরিকের?

ছাব্বিশের ভোটের ফলের পর ছিন্নভিন্ন দশা তৃণমূলের। দক্ষ রাজনীতিক ফিরহাদ হাকিমের অবস্থা যেন ঢাল-তরোয়ালহীন 'নিধিরাম সর্দারের' মতো। আর এভাবে তিনি জোর করে চেয়ার ধরে বসে থাকতে চান না। এই যুক্তিতে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।
Published By: Sayani SenPosted: 04:23 PM Jun 05, 2026Updated: 04:26 PM Jun 05, 2026

ছাব্বিশের ভোটের ফলের পর ছিন্নভিন্ন দশা তৃণমূলের। দক্ষ রাজনীতিক ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) অবস্থা যেন ঢাল-তরোয়ালহীন 'নিধিরাম সর্দারের' মতো। আর এভাবে তিনি জোর করে চেয়ার ধরে বসে থাকতে চান না। এই যুক্তিতে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত, প্রায় দীর্ঘ ৮ বছর মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়র পদে থাকাকালীন একের পর এক চ্যালেঞ্জ সামলেছেন। ইস্তফা দেওয়ার পর কাজের খতিয়ান দিলেন ফিরহাদ হাকিম।

Advertisement

ইস্তফা দেওয়ার পর ফিরহাদ হাকিম তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। ফিরহাদ বলেন, "২০১৮ সালে তৎকালীন মেয়র হঠাৎ ইস্তফা দেন। সব কাউন্সিলরদের সম্মতি নিয়ে আমাকে মেয়র করা হয়। এই চেয়ারে বসার যোগ্যতা নেই মনে হয়েছিল। প্রাতঃস্মরণীয় যাঁদের ছবিতে প্রণাম করে আমরা বড় হয়েছি, তাঁদের নখের যোগ্য হতে পারলে জীবন ধন্য হয়ে যাবে। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি দায়িত্ব পালন করলাম ২০১৮-১০২১। একুশের ভোটে আমাদের মানুষ সমর্থন করলেন, সেই থেকে এখনও রয়েছি।"

আট বছরের দীর্ঘ কার্যকালে কোভিড থেকে আমফান - একাধিক ঝড়ঝাপটা সামলাতে হয়েছে ফিরহাদকে। তিনি বলেন, "সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কোভিড। কোভিডকালে মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছি। দৈনন্দিন জিনিস পৌঁছে দেওয়া, জঞ্জাল পরিষ্কার। রোগ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে দেখেছি। আরেকটা সমস্যা হল টিকাকরণ। ভ্যাকসিন এল, ট্রায়াল হচ্ছিল না। আমাকে যখন বলা হল তখন মহানাগরিক হিসাবে এটা আমার দায়িত্ব, আমি নিজের দেহে ট্রায়াল নিয়েছিলাম।"

ফিরহাদের দাবি অনুযায়ী, দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল আমফান। প্রাক্তন মহানাগরিকের কথায়, "পুরসভার প্রত্যেক কর্মী, সাফাইকর্মী, যাঁরা আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। ৩ দিনের মধ্যে কলকাতা পুরো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। আমি মেয়র থাকাকালীন সেসব চ্যালেঞ্জ সামলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।" তিনি বলেন, "আরেকটি বড় পদক্ষেপ হল টক টু মেয়র। সকলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।"

এছাড়াও ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন বেআইনি নির্মাণ, ঠিকার অ্যাসেসমেন্ট কালেকশন, বাড়ির প্ল্যান স্যাংশন, সিসি দেওয়ার ব্য়বস্থা, পাইপলাইন, ক্রেশের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, "বায়োমেট্রিক, হোয়াটসঅ্যাপ অফ মেয়র করেছি। বায়ুদূষণ কমাতে কাজ করেছি। প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে আমফানের পর।" নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বপ্ন ছিল ঠনঠনিয়াকে জলযন্ত্রণা মুক্ত করা। সে স্বপ্নপূরণ করতে জলনিকাশির বন্দোবস্ত আরও জোরদার করা হয়েছে বলেই জানান প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। জল সরবরাহের ক্ষেত্রে কলকাতায় একাধিক বুস্টিং পাম্পিং সেন্টার তৈরি হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি জায়গায় জল সরবরাহ সংক্রান্ত কাজ বাকি রয়ে গিয়েছে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন ফিরহাদ হাকিম।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement