এক দিন পরেই সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রথম মহিলা অফিসার হিসাবে সিআরপিএফের পুরুষ সদস্যর বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন অ্যাসিসট্যান্ট কমান্ড্যান্ট সিমরন বালা। বিভিন্ন ফিল্ডে মেয়েরা সফল হচ্ছে। ‘দেশের প্রথম মহিলা’ ক্যাটেগরিতে একের পর এক বিদুষিনী, সাহসিনীর নাম জুড়ছে। আগামিদিনে আরও হবে। সেই আশার বীজ বপন করে দিল ‘জগদীশ বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ’ (জেবিএনএসটিএস) প্রতিযোগিতার বিজয়িনীরা। শনিবার জাতীয় কন্যা দিবসে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ স্বতন্ত্র সংগঠন জেবিএনএসটিএস বিজ্ঞানের পূজারি ১৫৩ জন মেধাবী ছাত্রীকে পুরস্কৃত করে। প্রদান করা হয় বৃত্তিও।
জেবিএনএসটিএসের পরীক্ষায় বসেছিল পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলার বিভিন্ন স্কুলের দশম ও দ্বাদশ পাস আনুমানিক ১৩ হাজার ছেলেমেয়ে। তার মধ্য থেকে এদিন পুরস্কৃত হল প্রায় ৪১৬ জন ছাত্রছাত্রী। জেবিএনএসটিএস সংগঠন সিনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্ট, জুনিয়র ট্যালেন্ট সার্চ টেস্টের মাধ্যমে বিজ্ঞানে আগ্রহী ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাছাই যেমন করে, তেমনই উৎসাহ দিতে নানা কর্মশালারও আয়োজন করে। সিনিয়র বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি, জুনিয়র বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি, মিলিয়ে শতাধিক ছাত্রীকে প্রদান করা হয়। এছাড়া মেধাবী ছাত্রদের পাশাপাশি সেরা মেধাবী কন্যা হিসাবে দশ কন্যার হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়। জুনিয়র স্কলাররা প্রতি মাসে পাবে পাবে ১২৫০ টাকার বৃত্তি। এককালীন বই কেনার অনুদান পেল ২৫০০ টাকা। সিনিয়র স্কলারদের দেওয়া হয় প্রায় ৪ হাজার টাকার বৃত্তি।
জেবিএনএসটিএসের ডিরেক্টর ড. মৈত্রী ভট্টাচার্য বলেন, “বিজ্ঞানচর্চা ও তার প্রয়োগ যে সব কর্মক্ষেত্রে হয় সেখানে আজও পুরুষ-নারী সংখ্যার বৈষম্য প্রকট। ১৯৬০ সালে এই সংগঠন যখন তৈরি হয় তখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ও শিক্ষিকার সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। ভারতে এখন স্টেম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাথস) এডুকেশন ও বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা করছে মাত্র ১৪ শতাংশ মেয়ে। মেয়েদের বিজ্ঞান শিক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষেই ২০১৭ সাল থেকে আমরা ‘বিজ্ঞানী কন্যা মেধা বৃত্তি’ চালু করেছি। ওদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য আমরা মহিলা বিজ্ঞানীদের এনে ওয়ার্কশপও করাই।” উচ্চশিক্ষিত হয়ে কর্মজগতে প্রবেশ করেও মেয়েরা সমানাধিকার পায় না বলে আক্ষেপ করলেন ডিরেক্টর স্বয়ং। তাঁর অভিযোগ, এখনও বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে, কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া মেয়েদের ব্যক্তিগত প্রশ্নে জেরবার হতে হয়।
বাংলা মাধ্যমের পাশাপাশি এই ট্যালেন্ট সার্চে অংশ নিয়েছিল সিবিএসই, আইসিএসই বোর্ডের ছাত্রছাত্রীরাও। বিজয়ীদের মধ্যে যেমন ছিল বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল স্কুলের পড়ুয়া, তেমনই ছিল দিল্লি পাবলিক স্কুল রুবি পার্ক, লিলুয়া ডন বসকো, আলিগঞ্জ ঋষি রাজনারায়ণ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও। কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে মেধাবী পড়ুয়ারা এদিন স্কলারশিপ পায়।
