পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন হাতিবাগান নবীন পল্লির পুজো প্রস্তুতি৷
সরোজ দরবার: প্রযুক্তি এগোবে। যন্ত্র এসে ঘিরে ধরবে আমাদের। যান্ত্রিক যুগের অগ্রগতিও তরতরিয়ে। তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। আর সেই ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে কি হারিয়ে যাবে সহজ সরল জীবন। হারিয়ে যাবে গ্রামের মাধুর্য, সরলতা। আক্ষেপের হলেও এটাই সত্যি। অথচ তা তো কাঙ্ক্ষিত নয়। এবাররে পুজোয় তারই একটা প্রতীকী প্রতিবাদ নিয়ে হাজির হাতিবাগান নবীন পল্লি।
[ এবার সমাজসেবীর পুজোয় হারানো শৈশবের ‘সবুজের অভিযান’ ]
এই পুজোয় এ বছরের থিমশিল্পী কমলদীপ ধর। পুজোর মানচিত্রে উত্তরের এই পুজোর জয় জয়কার তাঁর হাত ধরেই। নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার- থিম ভাবনা শহরের পুজোপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল। শুধু হরেক উপাচারে মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা নয়, যেভাবে ঐতিহ্যের অনুসারী হয়েছিলেন শিল্পী, তা এককথায় ছিল অনবদ্য। তারপর অনেক জল গড়িয়েছে। পুজো ঝুঁকেছে অন্য শিল্পীতে। শিল্পীও গিয়েছেন অন্য পুজোয়। এ বছর পুরনো ঘরে তাঁর আরও একবার প্রত্যাবর্তন। ফিরেছেন অতি প্রসঙ্গিক এক বিষয় নিয়ে।
গ্রাম বললেই আজও আমাদের চোখে বাসে শ্যামলে শ্যামল এক সুন্দর জলছবি। কিন্তু গ্রাম কি আজ সেরকমই আছে। তার থেকেও বড় কথা, মানুষের সহজ জীবনযাত্রা কি সেই আগের মতোই আছে। যন্ত্র এসে সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু একটা জীবনকে কেড়ে নেয়নি। অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। সত্যিই যন্ত্র আর প্রযুক্তি এসে ভুলিয়ে দিয়েছে একরকমের জীবনকে। কৃষকের পেশীতে সেদিন যে সৌন্দর্যের প্রকাশ, তা হাজার চেষ্টা করলেও তো ট্রাক্টরে মেলে না। ফারাক ঠিক এখানেই। এই যন্ত্রযুগের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও হারিয়ে যাওয়া জীবনগাথার জন্য আক্ষেপ জেগে থাকে। এই ভাবনা থেকেই মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছেন শিল্পী। তাঁদের কথায়, হারিয়ে যাওয়া জীবনকথা-যন্ত্র যুগের তারে গাঁথা। এই যন্ত্রযুগের তার কেটে বেরনোর একটা প্রচ্ছন্ন বার্তা মিশে থাকবে তাঁর কাজে। যেখানে লোহার পাইপের মাধ্যমে বেশ কিছু কাজ করা হচ্ছে। যা এই ভাবনাকে বাস্তবে তুলে ধরবে। এছাড়া এবারের বিশেষত্ব হল পুরো মণ্ডপকে সাজিয়ে তোলা হবে অতিবেগুনি আলোতে। এই আলো ও ভাবনাতেই উজ্জ্বল হবে মণ্ডপ। সেই সঙ্গে অপূর্ব সুষমামণ্ডিত প্রতিমা নির্মাণ করেছেন শিল্পী। যা দেখলে সত্যি চোখ পবিত্র হয়ে যায়।
[ ৩০০ বছরের প্রাচীন মন্দিরের প্রতিষ্ঠা এবার বড়িশা যুবক বৃন্দের পুজোয় ]
কলকাতার পুজোয় কমলদীপ ধরের কাজ মানেই নিছক চমক, গিমিক নয়। থাকে ভাবনা-চিন্তার রশদ। প্রাসঙ্গিক বার্তা। সেইসঙ্গে নির্মাণে এমন শিল্পিত রুচির ছোঁয়া তাকে যা মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। এবার সেই ভরসাতেই আশায় বুক বাঁধছেন উদ্যোক্তারা। অতীতে এই পুজোর সাফল্য বেশ নজরকাড়া। পাকিস্তানের ট্রাক আর্ট থেকে রাজস্থানের কাবার্ড শিল্পকে তুলে এনে কলকাতার পুজোকে বাড়তি মাইলেজ দিয়েছে নবীন পল্লি। এবার এই যন্ত্রযুগের ফাঁদ কেটে বেরনোর বার্তাতেই দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করতে তৈরি উদ্যোক্তারা।
[ পরনে সোনার শাড়ি, ত্রিনয়নে সিসিটিভি নিয়ে তাই ভিড়ে নজর স্বয়ং উমার ]
The post পুজোয় যন্ত্রযুগের যন্ত্রণা থেকে বেরনোর ডাক হাতিবাগান নবীন পল্লিতে appeared first on Sangbad Pratidin.
