হাওড়া মঙ্গলাহাটে (Howrah Mangla Haat) হকারদের উচ্ছেদ করে প্রশাসন। তীব্র বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, থানা-সহ বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দেন তাঁরা। সেখানে বলা হয়, হকারদের বসতে না দিলে কয়েক হাজার হকার বেকার হয়ে যাবেন। অবশেষে হাওড়া ময়দান চত্বরে মঙ্গলাহাটের হকারদের সোম ও মঙ্গলবার রাস্তার ফুটপাথে বসার অনুমতি দিল হাওড়া সিটি পুলিশ। আগামী সপ্তাহ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে শর্ত।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়ার সঙ্গে হকারদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোন কোন ফুটপাথের কোন অংশে জামাকাপড় নিয়ে হকাররা বসবেন তা চিহ্নিত করে দেবে পুলিশ। শুধু তাই নয়, মঙ্গলাহাটের হকারদের রাত ১২ টার পর ফুটপাথে বসতে পারবেন। ব্যবসা করতে পারবেন সকাল ৭টা পর্যন্ত। সকাল ৮টার মধ্যে ফুটপাথ ফাঁকা করে দিতে হবে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, হকাররা কোনওভাবেই রাস্তার উপর বসে জামাকাপড় বিক্রি করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, সপ্তাহ দুয়েক আগেই জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়, মঙ্গলাহাটের হকাররা রাস্তায় ও ফুটপাথে বসতে পারবেন না। যাঁরা বসবেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। সেই মতো প্রশাসনের কথা অমান্য করে যাঁরা ফুটপাথে বসেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করে হাওড়া থানা। হকারদের মালপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। এমনকী গ্রেপ্তারও করা হয়।
এরপরই এই সপ্তাহের প্রথমদিকে হকাররা আন্দোলনে নামেন। বিক্ষোভ দেখান। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, থানা-সহ বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দেন তাঁরা। এরপরই হকারদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলাশাসক। অবশেষে তাঁদের ফুটপাথে বসার অনুমতি দেওয়া হয়। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের তরফে মলয় দত্ত বললেন, "প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। ট্রাফিক আইন মেনে ফুটপাথেই হকাররা বসতে পারলে তাঁদের পরিবারগুলি বাঁচবে।"
