শনিবার ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে বুলডোজার। রবিবার কলকাতা হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি। এ দিন আদালত খুলতেই শুনানির আর্জি জানান সাংসদের আইনজীবী। ছুটির দিনে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে নজিরবিহীন শুনানি স্থির হয়েছে। আর একটু পরেই শুনানি শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
সাত দিনের ব্যবধানে ওই কার্যালয় নিয়ে দু'টি নোটিস দেওয়া হয়। প্রশাসনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈধ প্ল্যান ছাড়াই কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে। সেই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অভিষককে জেলা প্রশাসনের দপ্তরে হাজিরা দিতেও বলা হয়েছিল।
ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় বৈধ প্ল্যান-নথি ছাড়াই আমতলার কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালেই তাঁর কার্যালয় ঘিরে ফেলে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী। গার্ডরেলে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। বেলা বাড়তেই সেখানে এন্ট্রি নেয় ৩টি বুলডোজার। শুরু হয় কার্যালয় ভাঙার কাজ। কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়দের একাংশ। অভিষেকের কার্যালয় ভাঙা শুরু হতেই উচ্ছ্বাস শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। চলে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগানও। তাঁদের অভিযোগ, "এই কার্যালয় ছিল শাহজাহান, জাহাঙ্গিরের মতো গুন্ডাদের ঘাঁটি। এখান থেকে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছিল, সাত দিনের ব্যবধানে ওই কার্যালয় নিয়ে দু'টি নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈধ প্ল্যান ছাড়াই কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে। সেই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অভিষককে জেলা প্রশাসনের দপ্তরে হাজিরা দিতেও বলা হয়েছিল। নোটিসে এও উল্লেখ আছে, যে জমিতে সাংসদের কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে, তা লিপস এন্ড বাউন্ডসের নামে কেনা হয়েছিল। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। পরপর দু'বার নোটিসে সাড়া না দেওয়াতেই বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্যালয় ভাঙার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন আইনি উপায়ে লড়াই করবেন। তারপরই রবিবার আদালতে শুনানির আবেদন করা হয়েছে।
