shono
Advertisement
CM Suvendu Adhikari

ডবল ইঞ্জিনে উন্নয়নের দৌড়! শুভেন্দু সরকারের দু'মাসে বাংলায় কতটা কাটল শিল্পের খরা?

সরকার বদলের পরেই শিল্পক্ষেত্রে আশা জাগিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ছিল, ১০০ দিনের ম্যাজিক দেখবেন বাংলার মানুষ।
Published By: Kousik SinhaPosted: 06:16 PM Jul 09, 2026Updated: 07:12 PM Jul 09, 2026

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জেরে রাজ্য ছাড়া হতে হয়েছিল টাটা-কে। সেই আন্দোলন যেমন মমতাকে ক্ষমতায় আনার অন্যতম অনুঘটক ছিল, তেমনই শিল্প বনাম কৃষি নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পূর্বতন সরকারের শিল্পে অনীহা নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে গত ১৫ বছরে। ঘটা করে শিল্পবাণিজ্য সম্মেলন হলেও বিনিয়োগ কার্যত শূন্য! এবার পালাবদলের পর সেই শিল্প নিয়ে আশা দেখাতে শুরু করেছে শুভেন্দু-সরকার। তবে শুধু যে আশা নয়, বাস্তবে যে বিনিয়োগ আসছে, সেই চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে গত ২ মাসে। একের পর এক সংস্থার কর্তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) বৈঠক, শিল্প মহলের আশার আলো জাগাচ্ছে।

Advertisement

সরকার বদলের পরই শিল্প ক্ষেত্রে আশা জাগিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ছিল, ১০০ দিনের ম্যাজিক দেখবেন বাংলার মানুষ।

গত ৯ মে, ২০২৬। রাজ্যের মানুষ আরও এক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়। মানুষের রায়ে বিপুল ভোটে বাংলার মসনদে এখন বিজেপি সরকার। সরকার বদলের পরই শিল্প ক্ষেত্রে আশা জাগিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ছিল, ১০০ দিনের ম্যাজিক দেখবেন বাংলার মানুষ। বণিকসভার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, "আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ বা বড় ধামাকা করতে চলেছি, যা দেখার পর আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।'' আর ১০০ দিনের মধ্যেই তৃণমূল জমানার অন্ধকার কেটে গিয়েছে। এখন শিল্পমহলেও 'ভয় আউট, ভরসা ইন'।

ইতিমধ্যে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছে আমুল। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে বিশ্বের অন্যতম বড় দই কারখানা গড়বে গুজরাতের এই সংস্থা। সূত্রের খবর, সেখানে বিনিয়োগের অঙ্ক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। যা খবর, তাতে চলতি মাসেই ওই কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। সেখানে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের আরও দুই বড় সংস্থাও বাংলায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তা এই মাসেই।

যার মধ্যে লাক্স কোজি। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বাংলায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সংস্থা। উৎপাদন বাড়াতে তাদের কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হুগলির ডানকুনিতে এই বিনিয়োগ হবে। গতকাল, বুধবারই এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন লাক্স কর্তা অশোক টোডি। সবকিছু ঠিক থাকলে ১১ জুলাই নয়া কারখানার শিলান্যাস হতে পারে। পরিবর্তনের বাংলায় শ্যামস্টিলও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাঁকুড়ার মেজিয়ায় তৈরি হবে সংস্থার নয়া কারখানা। আর তার ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ১৮ জুলাই। অন্তত এমনটাই নবান্ন সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, দুটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

অন্যদিকে রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিসি। বুধবারই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সংস্থার কর্তারা। যা খবর, চলতি মাসেই মিৎসুবিসির শীর্ষকর্তারা রাজ্যে এসে জায়গা দেখতে পারেন। তারপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।

এখানেই শেষ নয়! সরকার বদলের পরই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন করণ আদানি। নিউটাউন রাজারহাটে ২০০০ হাজার শয্যার অত্যাধুনিক মানের হাসপাতাল গড়বে এই সংস্থা। জল্পনা, আদানি পাওয়ারও বাংলায় বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যেই আজ, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকে তিনিও বাংলায় বিপুল বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এছাড়াও গত দু'মাসে লারসন এন্ড টুব্র, 'ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজ়েস' (USE) গ্রুপের চেয়ারম্যান বাঙালি শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক শিল্পকর্তার বৈঠক হয়েছে। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনে সিঙ্গুর ছাড়তে হয় টাটাদের, সেখানেই এই সংস্থাকে ফেরাতে সরকারিভাবে তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলেও খবর। নবান্নের কর্তাদের কথায়, খুব শীঘ্রই আশার আলো এই বিষয়ে দেখা যেতে পারে। তাঁদের কথায়, আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই বাংলায় বিনিয়োগের জোয়ার আসবে। তৈরি হবে কর্মসংস্থান। আর সেই রাস্তা ইতিমধ্যেই তৈরি।

এছাড়াও ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপ্লব ঘটতে চলেছে বাংলায়। নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে প্রাথমিক পর্যায়ের ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ শেষ বলেই খবর। প্রায় ৫.৬ একর জমির উপর তৈরি হচ্ছে এই ডেটা সেন্টার। সিটিআরএলএস বা কন্ট্রোলএস ডেটাসেন্টারস লিমিটেড আগেই জানিয়েছে ১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাদের ডেটাসেন্টারটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কন্ট্রোলএস-এর। বিনিয়োগ করা হবে ২,২০০ কোটি টাকা। মোট ৪০০-র কাছাকাছি কর্মসংস্থান হবে বলে জানানো হয়েছে। বদলের বাংলায় অক্সিজেন পেয়েছে তৃণমূল জমানায় বন্ধ হয়ে যাওয়া জুটমিলগুলিও। তথ্য বলছে, গত একমাসের মধ্যেই ১৫ টি জুটমিল খুলে গিয়েছে। পুরোদমে শুরু হয়েছে কাজ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement