সরকারি হাসপাতাল খোলা থাকলেও সেখানে কাজে না গিয়ে সাংসদের স্বাস্থ্য শিবির ‘সেবাশ্রয়ে’ ছিল চিকিৎসকদের ভিড়। তার জন্য কি সরকারি কোনও অর্ডার জারি হয়েছিল? নাকি কোনও হর্তাকর্তার আদেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়ে’ হাজির হয়েছিলেন চিকিৎসকরা? অনুমোদন ছাড়া কীভাবে করা হত আলট্রাসোনোগ্রাফি? রহস্যভেদে তদন্ত শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর। শনিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কার আদেশে কোন কোন স্বাস্থ্য কর্তারা উপস্থিত ছিলেন সেবাশ্রয় শিবিরে, স্বাস্থ্য দপ্তরের কারা সেবাশ্রয়ে জড়িত ছিলেন পুরো বিষয়টাই দেখা হবে তদন্তে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ এর নভেম্বরে ডায়মণ্ডহারবারের সাংসদ ঘোষণা করেছিলেন ‘সেবাশ্রয় শিবিরে'র। ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এই সেবাশ্রয়। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভায় সাত দফায় চলে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত কর্মসূচি। যেখানে আল্ট্রোসোনোগ্রাফি শুরু করে ইকো কার্ডিওগ্রাফি, এক্সরে-সহ নানান পরীক্ষা হত। রেডিওলজি এক্সরে, রেডিওগ্রাফি, ব্র্যাকিথেরাপি করার সময় রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই জন্য এই সমস্ত যন্ত্র চালাতে রেডিয়েশন সেফটি অপারেশন লাইসেন্স লাগে। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ে কোনও যন্ত্রের জন্যই রেডিয়েশন সেফটি অপারেশন লাইসেন্স ছিল না। কীভাবে লাইসেন্স ছাড়া বেআইনি ভাবে এই যন্ত্র চালানো হয়েছে তাও দেখা হবে তদন্তে।
ভারতে গর্ভাবস্থায় লিঙ্গ নির্ধারণ আইনত নিষিদ্ধ। এই জন্য গর্ভবতী মায়ের আল্ট্রোসোনোগ্রাফি করতে হলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পিসিপিএনডিটি অ্যাক্টে ছাড়পত্র লাগে। প্রি কনসেপশন প্রি-ন্যাটাল ডায়গনস্টিক টেকনিক অ্যাক্টে ছাড়পত্র না পেলে গর্ভবতী মায়ের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা যায় না। অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে তেমনটাই হয়েছে অভিষেকের সেবাশ্রয় শিবিরে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, বেআইনিভাবে সেখানে লিঙ্গ নির্ধারণও হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গর্ভাবস্থায় ভ্রুণের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, পেট এবং পেলভিসের অঙ্গ পরীক্ষা আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন কোথা থেকে নেওয়া হয়েছিল তার তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।’’ ইতিমধ্যেই সেবাশ্রয় নিয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুসারে প্রতারণা, জালিয়াতির মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এবার স্বাস্থ্য দপ্তরও তদন্ত শুরু করায় চাপে সাংসদ।
