চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তার মধ্যেই এবার পোল্যান্ডে হামলার ছক কষছে মস্কো। ওয়ারশকে সতর্ক করে এমনটাই জানিয়েছে আমেরিকা। সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিম বিশ্বের সমর্থন দুর্বল করার লক্ষ্যে পোল্যান্ডে সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ' জানিয়েছে, রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে পোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সীমিত আকারের বিমান হামলা ইত্যাদি। তবে এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য পূর্ণাঙ্গ কোনও যুদ্ধ শুরু করা নয়। বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া জানা যায়।
মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের খবর, পোল্যান্ডে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ন্যাটোর শক্তি পরীক্ষা করা। শুধু তাই নয়, বিশেষ এই জোটটি কতটা ঐক্যবদ্ধ, সেটাও পরীক্ষা করা। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, পোল্যান্ডে রাশিয়া সামরিক অভিযান চালালে ওয়ারশ-র পাশে দাঁড়াতে পারে আমেরিকা। সেই সুযোগে মস্কো আলোচনার প্রস্তাব দিতে পারে। রাশিয়া শর্ত দিতে পারে যে, ইউক্রেনকে পশ্চিমী দেশগুলির সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে। তবেই পোল্যান্ডে 'আগ্রাসন' বন্ধ করবে মস্কো। পাশাপাশি, কূটনৈতিক চাপও সৃষ্টি করবে তারা। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কোনও হামলা বা উত্তেজনার জন্য ইউক্রেনকেও দায়ী করার চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া, যাতে পশ্চিমী দেশগুলির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যদিও মস্কো এ ধরনের কোনও পরিকল্পনার কথা এখনও স্বীকার করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া যদি পোল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে তার প্রভাব শুধু পোল্যান্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গোটা ইউরোপের নিরাপত্তার উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন হামলা পোল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে পাশাপাশি ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি করতে পারে। যার প্রভাব পড়বে ইউক্রেনের উপরে। এদিকে হামলার জল্পনার মধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছে পোল্যান্ডও। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পোল্যান্ডে কোনও হামলা হলে, তার কড়া জবাব দেবে ওয়ারশ।
