দীর্ঘ টালবাহানার পর গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত শিবিরকে 'শহিদ স্মরণ'-এর অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। কিন্ত একুশের সমাবেশ ঘিরে মমতাপন্থী অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূল এখনও সন্দিহান। আগেই ধর্মতলায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি গেলেও তা খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই চত্বরে জারি আছে ১৬৩ ধারা। তা সত্ত্বেও নাছোড়বান্দা কালীঘাট তৃণমূল। অগত্যা নিজেদের চিরাচরিত ২১ জুলাই 'ধর্মতলা চলো' পোস্টার বদলে ফেলল তারা। মমতা-অভিষেকের ছবি দিয়ে এবার কালীঘাট তৃণমূলের নতুন পোস্টার 'কলকাতা চলো'।
গত বছর পর্যন্তও একুশে জুলাইয়ের আগে গোটা শহরজুড়ে তো বটেই, রাজ্যেরও আনাচে কানাচে ছেয়ে যেত তৃণমূল কংগ্রেসের 'ধর্মতলা চলো' পোস্টারে। ধর্মতলায় কার্যত উৎসবের মেজাজে 'শহিদ স্মরণ'-এর অনুষ্ঠান হত। কিন্তু এবছর গোটা ছবিটাই বদলে গেছে। একুশের সমাবেশের জটিলতা কাটাতে হাই কোর্ট পর্যন্ত দৌড়েছে মমতাপন্থীরা। সমাবেশ কোথায় হবে, আদৌ পুলিশ তাদের অনুমতি দেবে কিনা, এমন হাজারো প্রশ্ন থাকলেও, নিজেদের সান্ত্বনা দিতে তৃণমূলের পোস্টারে জায়গার নামের উল্লেখ না করেই পোস্টার প্রকাশ করে দিল কালীঘাটপন্থীরা!
তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত।
'কলকাতা চলো' পোস্টার তো হল, কিন্তু এবছর সমাবেশের ভবিষ্যৎ কী? সূত্রের খবর, পুলিশের তরফে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া না গেলে শহরের বেশ কিছু জায়গায় ছোট ছোট জনসভার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে কালীঘাট শিবির। আর সেই প্রত্যেকটি সভাতেই যেতে পারেন তাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেক্ষেত্রেও পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে শনিবার ২১ জুলাই সভার অনুমতি পেয়েছে ঋতব্রত শিবির। আগামিকাল গান্ধী মূর্তির পাদদেশ এলাকা পরিদর্শনে যাবেন ঋতব্রতরা। এমনটাই খবর ‘আসল’ তৃণমূল সূত্রে।
ছাব্বিশের নির্বাচনের পর দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। ঋতব্রত ও কালীঘাট শিবির দুই পক্ষই ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চায়। তবে পুলিশ জানিয়ে দেয় ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের আয়োজন করা যাবে না। বিকল্প জায়গার কথা জানাতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন ঋতব্রতপন্থীরা। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করার অনুমতি চান তাঁরা। তারপর সেই অনুমতি মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ২১ জুলাই নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর পরিকল্পনা আদৌ বাস্তব রূপ নেয় কিনা, তার জন্য অপেক্ষা আরও কয়েকটা দিন।
