প্রতীক কার! তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে টানাপোড়েন। এরমধ্যেই গত কয়েকদিন ধরে 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠদের পরপর কর্মসূচি চোখে পড়েছে। কখনও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক, কখনও কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক। তবে সব থেকে বড় আপডেট এসেছে দিন পাঁচেক আগে! তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে অরূপ রায়ের নাম। সেই ঘটনার ৫ দিন পর এবার 'অ্যাকশনে' কালীঘাট তৃণমূল। শহরজুড়ে চার চারটে এফআইআর দায়ের করা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলের তরফে। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের বিরুদ্ধে কলকাতার তিনটি থানা ও সাইবার ক্রাইম বিভাগে মোট চারটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অবৈধভাবে প্রতীক ব্যবহার করা, অবৈধভাবে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করে দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে।
যদিও এক্ষেত্রে ঋতব্রত তৃণমূলের দাবি, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যে কমিশনকে জানানো হয়েছে। তারাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
কিছুদিন আগে নিউ টাউনের একটি অভিজাত হোটেলে বৈঠকে বসেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেখান থেকেই অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই নিউটাউনে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শনিবার তপসিয়ায় একটি বৈঠক করেছে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান-সহ তৃণমূল নেতারা। তাই প্রগতি ময়দান খানাতেও দায়ের হয়েছে একটি এফআইআর। এছাড়া তৃণমূলের সদর দপ্তর কালীঘাট এলাকায়, তাই কালীঘাট থানাতেও আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল।
ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগটা ঠিক কী, সেটা বুঝতে গেলে মূল সংগঠনের কয়েকটি বিষয়বস্তু জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কালীঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে তৃণমূলের একটি সাংগঠনিক সম্মেলন হয়েছিল। সেই সম্মেলনে উপস্থিত ডেলিগেটসরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজীবন তৃণমূলের চেয়ারপার্সন রাখা হবে এই মর্মে ভোট দিয়েছিলেন। বলে রাখা দরকার, এই সম্মেলনে ডেলিগেট হিসেবে ভোটদানের অধিকার তারাই পেতে পারে যাদের কম করে পাঁচ বছরের সদস্যপদ রয়েছে। হিসেব মতো ৫ বছর অন্তর ওই সম্মেলন হওয়ার কথা। অর্থাৎ আগামী বছর ২০২৭ এ ফের সাংগঠনিক সম্মেলন হওয়ার কথা তৃণমূলে। এরমধ্যে যদি কোনও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে যে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে হবে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে 'চেয়ারপার্সন' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, সে সব না করে কার্যত 'অবৈধভাবে' তৃণমূল নেত্রীর অনুপস্থিতিতেই ঋতব্রত শিবির তাঁদের 'চেয়ারপার্সন' হিসাবে অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করল এবং তারপর থেকেই দলের 'ঘাসফুল' প্রতীক এবং 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অবৈধ বলে দাবি কালীঘাট শিবিরের। যদিও এক্ষেত্রে ঋতব্রত তৃণমূলের দাবি, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যে কমিশনকে জানানো হয়েছে। তারাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
