কখনও ঘরোয়া আড্ডায় গিটার বাজানো, কখনও রিয়েলিটি শো-তে গলা ছেড়ে গান। দিন দুই আগে আবার মহানায়কের জন্মশতবর্ষে রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানের মঞ্চে গান গাইতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে পাশে দাঁড়িয়ে লিপ মেলাতে দেখা গিয়েছিল বারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকেও। এসব নিয়ে চর্চার মাঝেই বারাকপুরের তরুণ বিধায়ককে নিয়ে নয়া জল্পনা। এবার কি অভিনয়ে পা রাখছেন কৌস্তভ বাগচী (Kaustuv Bagchi)? শুক্রবার পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'উইঙ্কল টুইঙ্কল' দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় কৌস্তভকে। মুচকি হেসে তিনি শুধু বললেন, ‘‘আমি এসব জানি না...।'' আর তাতেই জল্পনা আরও উসকে উঠেছে।
মহানায়ক স্মরণে হেঁটেছিলেন কৌস্তভ বাগচী, ছবি: ফেসবুক
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এর প্রিমিয়ারে যত না চাঁদের হাট, তার চেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রীতিমতো ফটোসেশন করেছেন কৌস্তভ বাগচী, শতরূপ ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষরা। বামপন্থী অভিনেতা তথা এই ছবির অন্যতম মূল চরিত্র ঋত্বিক চক্রবর্তীও তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলেছেন। সেখানেই সাংবাদিকরা কৌস্তভকে নিজের অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। হেসে বারাকপুরের বিধায়ক বলেন, ‘‘আমি সেসব জানি না। গান গাইতে আমার ভালো লাগে। এই গানবাজনা, নাটক-থিয়েটার আমার অত্যন্ত প্রিয়। আমি সবসময়ে এই কালচারের মধ্যে থাকি। সৃজিতদা আজ আমাকে সিনেমাটি দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাই দেখতে এসেছি।''
'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এর প্রিমিয়ারে কৌস্তভ, ছবি: ফেসবুক
'উইঙ্কল টুইঙ্কল' পুরোদস্তুর রাজনৈতিক সিনেমা। মূলত বাবা-ছেলের রাজনৈতিক আদর্শের সংঘাত। এমন একটি সিনেমা দেখতে একসঙ্গে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা এসেছেন, এও স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর মধ্যে রাজনীতির কোনও ছোঁয়া লাগাতে চাননি কৌস্তভ। তাঁর কথায়, ‘‘আমি রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়েছি। সেটা রাজনীতির লড়াই। কিন্তু সংস্কৃতি, সিনেমা, সঙ্গীত - এসব ক্ষেত্রে আমি কোনও 'আমরা-ওরা' বিভেদ করতে চাই না। ওটা আগেকার সরকার করত।'' তবে একটা কৌতূহল তো ঘোরাফেরা করছেই। কবে পর্দায় দেখা যাবে বারাকপুরের আইনজীবী বিধায়ককে।
