shono
Advertisement
Mamata Banerjee

মমতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অখিলেশ! 'জনতাই ওঁকে চায়নি', কলকাতায় দিদিকে বিঁধলেন কিরণময়

সমাজবাদী পার্টির নেতার মন্তব্যে ইন্ডিয়া জোটে ফাটল আরও বাড়ল নিঃসন্দেহে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:41 PM Jun 15, 2026Updated: 08:57 PM Jun 15, 2026

ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি মেনে নিতে পারেননি দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বারবারই অভিযোগ তুলেছিলেন, ভোটে কারচুপি করে জিতেছে বিজেপি, হারানো হয়েছে তৃণমূলকে। তাঁর এই অভিযোগকে নৈতিক সমর্থন জুগিয়েছিলেন জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। এমনকী কলকাতায় এসেও তিনি মমতার বাড়ি গিয়ে দেখা করেছিলেন। কিন্তু একমাসের মধ্যেই এই সমর্থন-চিত্রে বদল! সোমবার কলকাতায় এসে অখিলেশের 'দূত' তথা সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দ তৃণমূলনেত্রীকে তুলোধোনা করলেন। তাঁর সাফ বক্তব্য, যতই হার মানতে না চান মমতা, তিনি হেরেই গিয়েছেন, জনতাই তাঁকে চায়নি। কিরণময় নন্দের এই আক্রমণ থেকে স্পষ্ট, 'দিদি'র থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অখিলেশ। একইসঙ্গে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটে আরও চওড়া হল ফাটল।

Advertisement

সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতির কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটো জায়গাতেই হেরেছেন। আগেও তিনি হেরেছেন, তখনও বলেছিলেন হারেননি। এবারও তাই। ভবানীপুরের জনতাই তাঁকে আর চায়নি। আমার দলের নেতা এসে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারেননি। কিন্তু উনি তো হেরেছেন। অখিলেশ যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাস্তব আলাদা। বাংলায় নির্বাচন সঠিক নির্বাচন হয়েছে।''

রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে বৈঠক ছিল। সেখানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন প্রাক্তন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দ। সেখানেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতির কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটো জায়গাতেই হেরেছেন। আগেও তিনি হেরেছেন, তখনও বলেছিলেন হারেননি। এবারও তাই। ভবানীপুরের জনতাই তাঁকে আর চায়নি। আমার দলের নেতা এসে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারেননি। কিন্তু উনি তো হেরেছেন। অখিলেশ যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাস্তব আলাদা। বাংলায় নির্বাচন সঠিক নির্বাচন হয়েছে।''

এদিন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা গেল সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতির গলায়। বললেন, ‘‘নতুন সরকারের আমলে ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। ১৫ বছরের দুর্নীতি, অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়েছে। বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হল। আমিও এখানকার ভোটার, শুভেন্দু অধিকারীর পাড়ার (পূর্ব মেদিনীপুর)। কিন্তু উনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। হঠাৎ করে তো দেখা করা যায় না। আমি আবার পরে আসব। আশা করি, তখন দেখা হবে।'' 

সম্প্রতি দিল্লি গিয়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকও করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর কংগ্রেসে বড় পদ নিয়ে ফিরে যাওয়া সংক্রান্ত গুঞ্জনও তীব্র হয়েছিল। তবে জোটশরিকরা যে তাঁকে আর খুব একটা সমর্থন করছেন না, তা স্পষ্ট হল কিরণময় নন্দর কথায়। তিনি তৃণমূলনেত্রীর সমালোচনা করলেন। তবে কি তাঁর মন্তব্যই সমাজবাদী পার্টির মনোভাব? অর্থাৎ মমতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অখিলেশ?

আসলে রাজ্যে হতশ্রী ফলাফলের পর এখন জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা খুঁজছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলপ্রকাশের পরপরই মমতা ও তাঁর দলের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বিজেপিকে বিঁধেছিলেন একে একে রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদবরা। এরপর সম্প্রতি দিল্লি গিয়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকও করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর কংগ্রেসে বড় পদ নিয়ে ফিরে যাওয়া সংক্রান্ত গুঞ্জনও তীব্র হয়েছিল। তবে জোটশরিকরা যে তাঁকে আর খুব একটা সমর্থন করছেন না, তা স্পষ্ট হল কিরণময় নন্দর কথায়। তিনি তৃণমূলনেত্রীর সমালোচনা করলেন। তবে কি তাঁর মন্তব্যই সমাজবাদী পার্টির মনোভাব? অর্থাৎ মমতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অখিলে

দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক, ৮ জুন।

আবার আরেকাংশের মত, ইদানিং অখিলেশের সঙ্গে কিরণময়েরই নানা বিষয়ে মতানৈক্য হচ্ছে। তিনি সপা থেকে সরতে পারেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দলের জাতীয় সহ-সভাপতি পদে আসীন কিরণময়ের বিবৃতি দলের বলেই ধরে নিতে হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement