পুজোপাঠ আর যজ্ঞ করলেই মিলবে শান্তি। মাথার উপর থেকে চলে যাবে শয়তানের কালো ছায়া। ভবিষ্যৎ হবে ঊজ্জ্বল। মুর্শিদাবাদের এক তান্ত্রিকের এই আশ্বাসের ফাঁদে পা দিয়েই বিপদে কলকাতার যুবতী। পাশে বসিয়ে যজ্ঞ করার নামে প্রথমে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি। ক্রমে ঘুমের ওষুধ মেশানো প্রসাদ খাইয়ে যুবতীর কয়েক লাখ টাকার গয়না ও নগদ সোয়া তিন লাখ টাকা ওই পুরোহিত হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ যুবতীর। অভিযোগ, এই কুকীর্তিতে ওই পুরোহিতকে সাহায্য করেছে তারই সঙ্গিনী ও এক শিষ্য। ওই তিনজনের বিরুদ্ধেই বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যুবতী।
পুলিশ জানিয়েছে, বেহালার রাজা রামমোহন রায় রোডের বাসিন্দা ওই যুবতী পারিবারিক সমস্যার কারণে হতাশায় ভুগছিলেন। তখনই একটি সূত্র ধরে যুবতী মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কাশিমবাজার এলাকার বাসিন্দা এক তান্ত্রিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই তান্ত্রিক সমস্যার কথা শুনেই তাঁকে বলে, তাঁর জীবনে দেখা গিয়েছে শয়তানের ছায়া। বেশ কয়েকবার পুজোপাঠ আর যজ্ঞ করলে শয়তান আর ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবে না। সেই আশ্বাসেই যুবতী বেহালায় নিজের বাড়িতেই যজ্ঞের আয়োজন করেন। সোমনাথ নামে ওই তান্ত্রিক সঙ্গিনী ও শিষ্যকে নিয়ে যুবতীর বাড়িতে যায়। অভিযোগ, যুবতীকে পাশে বসিয়ে যজ্ঞ করার সময়ই তান্ত্রিক তাঁকে কুপ্রস্তাব দেয়। তাঁর শ্লীলতাহানিও করে বলে অভিযোগ।
পুজো ও যজ্ঞ করার নামে যুবতীর কাছ থেকে তান্ত্রিক ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু তাতেও যুবতীর জীবন থেকে ‘শয়তানের কালো ছায়া’ সরেনি। তখন তান্ত্রিক বলে, সোনা ছাড়া পুজো ও যজ্ঞ সম্পূর্ণ হবে না। তাই যুবতীকে তাঁর যাবতীয় সোনার গয়না জড়ো করতে বলে তান্ত্রিক। গত বছরের নভেম্বরে ফের সোমনাথ তার সঙ্গিনী ও শিষ্যকে নিয়ে যুবতীর বাড়িতে যায়। যুবতীকে ‘পুজোর প্রসাদ’ খেতে দেয় সে। যুবতী সেই প্রসাদ খাওয়ার পরই অচেতন হয়ে পড়েন। তখন তাঁর যাবতীয় গয়না নিয়ে উধাও হয়ে যায় সেই তান্ত্রিক ও সঙ্গীরা। চেতনা ফেরার পর তিনি তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে গয়না ও টাকা ফেরত চান। কিন্তু তার বদলে তাঁকে হুমকি ও শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। কয়েক মাস ধরে তিনি চেষ্টা করার পরও টাকা ও গয়না ফেরত পাননি। এর পরই তিনি বেহালা থানায় তান্ত্রিক-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ওই তান্ত্রিক ও সঙ্গী-সঙ্গিনীদের সন্ধানে মুর্শিদাবাদে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
