রাজ্যে পালাবদলের পর দুর্নীতিতে নাম জড়ায় একের পর এক তৃণমূল নেতার। সেই সমস্ত অভিযোগে গ্রেপ্তারও হতে হয় অনেককে। এবার ভয় দেখিয়ে চুক্তিপত্রে সই করানোর অভিযোগ বাপি ঘোষের বিরুদ্ধে। যিনি কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য জমি হাতিয়ে নেন তিনি। এরপরেই শ্যামপুকুর থানার দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী অনিতা সাউ। তাঁর আরও অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী একটি ফ্ল্যাট, দোকানঘর এবং নগদ সাড়ে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্ল্যাট, দোকানঘর দিলেও কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার ৫ নম্বর গোপী মোহন দত্ত লেনের বাসিন্দা অনিতা সাউ গত ২৫শে আগস্ট শ্যামপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২০ সালে বাপি ঘোষ এবং তাঁর দলবদল একপ্রকার জোর করেই একটি চুক্তিপত্রে সই করিয়ে নেন। উদ্দেশ্য ছিল ওই জমিতে একটি বহুতল আবাসন নির্মাণ। চুক্তি অনুযায়ী, অভিযোগকারিণীকে একটি ফ্ল্যাট, একটি দোকান ঘর এবং ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল অভিযুক্তদের। অভিযোগকারিণীর দাবি, বহুতল নির্মাণের পর তাঁকে ফ্ল্যাট ও দোকান ঘর দেওয়া হলেও ১০ লাখ টাকা দিতে অস্বীকার করেন বাপি ঘোষ। উলটে পাওনা টাকা চাইতে গেলে অনিতা দেবী এবং তাঁর ছেলেকে চরম ফল ভুগতে হবে শাসানি দেওয়া হয়। এমনকী মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু ভয় কাউকে কিছু বলতে পারেননি।
কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর বদল হয়েছে পরিস্থিতির। রাজ্যে এখন 'ভয় আউট-ভরসা ইন'। এই পরিস্থিতি শ্যামপুকুর থানায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নামে লিখিত অভিযোগ জানান অনিতা। সূত্রে খবর, মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রুজু হয়েছে এফআইআরও। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারণা, তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেতার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
