গোলপার্কের পঞ্চাননতলায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের জালে আরও তিন। ধৃত তিনজনের নাম সৌগত বসু ওরফে রনি, মিন্টু ভঞ্জ ওরফে মিন্টাই এবং প্রবীর প্রামাণিক ওরফে মামাই। শনিবার সন্ধ্যায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত তিনজনই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর অনুগামী বলে জানা যাচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা সোনা পাপ্পু! এফআইআর হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এমনকী অন্যতম আরও অভিযুক্ত বাপি হালদারকেও ধরতে পারেনি পুলিশ।
গত রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। দু’পক্ষের মধ্যে চলে ইটবৃষ্টিও। এমনকী বোমাবাজি এবং গুলি চালানোরও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় দক্ষিণ কলকাতার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। ঘটনার পরেই রবীন্দ্র সরোবর থানায় তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগ কসবার কুখ্যাত সোনা পাপ্পু ও তার ঘনিষ্ঠ বাবুসোনা এবং তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। পঞ্চাননতলার বাপি হালদার ও তাঁর লোকেদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে নেমে সোনা পাপ্পুর ডানহাত বাবুসোনা মণ্ডল-সহ একাধিকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতরা সবাই সোনা পাপ্পু এবং বিরোধী গোষ্ঠী বাপি হালদার অনুগামী বলে জানা যায়। এমনকী আজ শনিবার অভিযান চালিয়ে যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরাও সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ বলে জানা যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত সোনা পাপ্পু গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
যদিও ঘটনার পরেই অজ্ঞাতবাসে থেকেই ফেসবুক লাইভ করেন সোনা পাপ্পু। সেখানে তাঁর দাবি, ''কয়েকদিন ধরেই শুনতে পাচ্ছি সোনা পাপ্পুকে অ্যারেস্ট করতে হবে। কারণ, রবিবার দিন নাকি সোনা পাপ্পু কোথায় ঝামেলা করেছে। ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার দিন আমার বাড়িতে পুর্ণিমা ছিল। সকাল থেকে উপোস করে বাড়িতে বসেছিলাম। তাহলে কীভাবে ঝামেলা করতে গেলাম।'' যদিও তদন্তে পুলিশের দাবি, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর ইন্ধনে সংঘর্ষ হয়েছে। এমনকী দুই গোষ্ঠীর সিন্ডিকেটের লড়াইয়ে গত রবিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোলপার্ক।
