পথ দুর্ঘটনার কারণে আতঙ্কে মহিলা। একটি গাড়ির বিরুদ্ধে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলেও থানা তাঁর অভিযোগ নিতে চায়নি বলে ‘নালিশ’ পুলিশ কমিশনারকে। এর পরই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। লালবাজারের কর্তাদের নির্দেশেই অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা দায়ের করেন হেস্টিংস থানার আধিকারিকরা। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এক মাস আগে ওই ঘটনাটি ঘটে। দক্ষিণ কলকাতার চেতলা হাট এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন দুপুরে তিনি কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে অ্যাপ ক্যাব বুক করে হেস্টিংসের ডি এল খান রোড ধরে যাচ্ছিলেন।
একটি মার্সেডিজ গাড়ি বেপরোয়া গতিতে উলটোদিক থেকে এসে রাস্তার মাঝখানে হলুদ রেখা পেরিয়ে এসে তাঁদের অ্যাপ ক্যাবটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। তখন পিছন দিক থেকে অন্য একটি ছোট মালবাহী গাড়ি আসছিল। সেটি অ্যাপ ক্যাবটির পিছনে ধাক্কা দেয়। এই দুর্ঘটনার জেরে তাঁদের প্রত্যেকের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লাগে। তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগকারিণী-সহ ক্যাবের ভিতর থাকা প্রত্যেক যাত্রীর মাথা ও অন্য জায়গায় সেলাই করতে হয়। শুধু কাগজপত্রের কারণে যন্ত্রণা নিয়েই তাঁদের প্রায় গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে থেকে যেতে হয়। এক পুলিশ আধিকারিক তঁাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিবরণ দেওয়ার কথাও বলেন। তার পর দু’দিন ধরে তাঁদের হাসপাতালে আসতে হয়। এরপর তাঁরা আহত অবস্থায় হেস্টিংস থানায় অভিযোগ জানাতে যান।
অভিযোগকারিণীর অভিযোগ, থানার এক আধিকারিক তাঁদের জানান, অ্যাপ ক্যাব ও মার্সেডিজ গাড়িটির মালিকদের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে। তাই যাত্রীরা আহত হলেও কোনও দাবি করতে পারেন না। থানার পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানোর পর ওই মহিলা, তাঁর আত্মীয়রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরই তাঁরা পুলিশ কমিশনার ও ডিসি (সাউথ)কে নালিশ জানিয়ে চিঠি লেখেন। পুলিশকর্তাদের নির্দেশমতোই তৎপর হয়ে ওঠেন হেস্টিংস থানার আধিকারিকরা। শনিবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ডি এল খান রোডের যে জায়গাটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেই জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত মার্সেডিজ গাড়ির চালক ও মালিকের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
