shono
Advertisement
Karate

ক‌্যারাটে-কুংফু শেখানোর নামে হস্টেলে নাবালিকার যৌন নিগ্রহ! গ্রেপ্তার মার্শাল আর্ট শিক্ষক

ছাত্রীদের আত্মরক্ষা শেখানোর নামে নিজেই নিগ্রহকারী শিক্ষক! দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক অঞ্চলে একটি এনজিও-র ঘটনায় তাজ্জব পুলিশও।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:06 AM Jul 13, 2026Updated: 09:09 AM Jul 13, 2026

ক‌্যারাটে ও কুংফু শেখানোর নাম করে দিনের পর দিন নাবালিকাদের যৌন নিগ্রহের অভিযোগ। সেই কুকীর্তি যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্য তাদের হুমকিও দেওয়া হতো। শেষপর্যন্ত সাহস করে এক নাবালিকা মুখ খুলে ফাঁস করে 'স্যর'-এর কুকীর্তি। শ্লীলতাহানি বা ইভটিজিংয়ের হাত থেকে নাবালিকাদের বাঁচানোর জন‌্য যে ব‌্যক্তি তাদের আত্মরক্ষার শিক্ষা দিত, সে নিজেই যৌন নিগ্রহকারী! খাস কলকাতায় এমন ঘটনা জানতে পেরে আঁতকে উঠেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। শেষপর্যন্ত পকসো আইনে মার্শাল আর্ট শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

Advertisement

দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক অঞ্চলে একটি এনজিও-র হস্টেলে কোষাধ‌্যক্ষের কাজ করত সে। তাছাড়া ওই হস্টেলের আবাসিক নাবালিকাদের মার্শাল আর্ট শেখাত। অভিযোগ, সে মার্শাল আর্ট শেখানোর নামে বিভিন্নভাবে নাবালিকাদের স্পর্শ করত। তাতে অনেকে অস্বস্তি বোধ করলেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়নি। আরও অভিযোগ, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আলাদাভাবে শেখানোর নাম করে হস্টেলের ভিতরই নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিগ্রহ করত ওই অভিযুক্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ওই শিক্ষকের নাম প্রসেনজিৎ দাস। দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক অঞ্চলে একটি এনজিও-র হস্টেলে কোষাধ‌্যক্ষের কাজ করত সে। তাছাড়া ওই হস্টেলের আবাসিক নাবালিকাদের মার্শাল আর্ট শেখাত। মূলত যে নাবালিকারা মা-বাবার কাছে থাকত না, অথবা যাদের কেউ নেই, তারাই ওই এনজিও-র হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। খেলাধুলোর ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহ জোগাত এনজিও। সেই কারণেই কোষাধ্যক্ষের কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে নাবালিকাদের ক‌্যারাটে ও কুংফু শেখানোর কাজও করতে হত প্রসেনজিৎকে। অভিযোগ, সে মার্শাল আর্ট শেখানোর নামে বিভিন্নভাবে নাবালিকাদের স্পর্শ করত। তাতে অনেকে অস্বস্তি বোধ করলেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়নি। আরও অভিযোগ, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আলাদাভাবে শেখানোর নাম করে হস্টেলের ভিতরই নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিগ্রহ করত ওই অভিযুক্ত।

দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরের বাসিন্দা এক নাবালিকার মা ও বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তাকে সেভাবে দেখার কেউ ছিলেন না। তাই গত বছর কয়েকজন পরিচিত মেয়েটিকে সার্ভে পার্কের ওই হস্টেলে রেখে আসেন। সেখানে সে অন‌্যদের মতোই মার্শাল আর্ট শিখতে শুরু করে প্রসেনজিতের কাছে। ওই নাবালিকার অভিযোগ, হস্টেলের মধ্যে কয়েকমাস ধরে তার যৌন নিগ্রহ করতে থাকে ওই শিক্ষক। সে অভিযুক্তকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেও কোনও লাভ হয়নি। রীতিমতো ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে আলাদা ক্লাস নেওয়ার নাম করে ওই মেয়েটিকে নির্জন জায়গায় নিয়ে যেত শিক্ষক। সেখানে চলত তার লাগাতার যৌন নিগ্রহ।

টানা কয়েকমাস ওই যৌন অত‌্যাচার সহ‌্য করার পর সে আতঙ্কে ভুগতে শুরু করে। হস্টেলের অন‌্য এক শিক্ষকের চোখে ধরা পড়ে যায় এই বিষয়টি। তিনি সহানুভূতির সঙ্গে ওই কিশোরীকে তার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন সে শিক্ষকের কাছে ভেঙে পড়ে সব খুলে বলে। এরপর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই শিক্ষক চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে সরাসরি অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়েই কমিটির তরফ থেকে সদস‌্যরা ওই হস্টেলে এসে তদন্ত করেন। নাবালিকার সঙ্গে কথা বলার পর সিডব্লুসি-র পক্ষ থেকে তাকে হোমে রাখার ব‌্যবস্থা করা হয়।

প্রথমে রবীন্দ্র সরোবর থানায় ওই নাবালিকার পক্ষে ওই মার্শাল আর্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। যেহেতু ঘটনাস্থল সার্ভে পার্ক থানা এলাকায়, তাই রবীন্দ্র সরোবর থানা জিরো এফআইআর করে ওই অভিযোগটি সার্ভে পার্ক থানায় পাঠিয়ে দেয়। তদন্তের পর পুলিশ মার্শাল আর্ট শিক্ষক প্রসেনজিৎ দাসকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে আরও কতজন নাবালিকার যৌন নিগ্রহ সে করেছে, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement