নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নখাতে মহানগরের সমস্ত ওয়ার্ডেই সমপরিমাণ আর্থিক বরাদ্দের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ঘোষণাকে মর্যাদা দিয়ে কলকাতা পুরভোটের আগেই সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বস্তুত তারই প্রাথমিক খসড়া তৈরিতে ইতিমধ্যে পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওয়ার্ডের সীমানা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। কলকাতার মোট ভোটার সংখ্যা ও বুথের হিসাব মিলিয়ে পুরকর্তারা দেখেছেন, খসড়ার প্রস্তাব মেনে ডিলিমিটেশনের জেরে এক ধাক্কায় ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে কমবেশি ২০০টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওয়ার্ডগুলির আয়তন ও ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান রাখতে গিয়ে কলকাতা কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২৫ থেকে ৩০টি করে বুথ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
পুরবোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। আসলে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীতি হল, ছোট ছোট রাজ্য, এলাকা সংক্ষিপ্ত হলে সুশাসন দেওয়া সহজ। বস্তুত সে কথা মাথায় রেখে পুরভোটের আগেই কলকাতার বড় ওয়ার্ডগুলি ভেঙে ছোট ও সংখ্যায় বৃদ্ধি করে উন্নততর নাগরিক পরিষেবা ও সুশাসন চালু করতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি।
কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৪৮০০ বুথ রয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা উত্তর লোকসভায় ১৮৩৫ ও কলকাতা দক্ষিণ সংসদীয় কেন্দ্রে ২০৩০টি বুথ ছাড়াও টালিগঞ্জে ৩১০ এবং যাদবপুর বিধানসভা ক্ষেত্রে ৩৫৩টি বুথে ভোটার আছেন। মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার ১৩৬ থেকে ১৪১ ওয়ার্ডগুলি কলকাতা পুরসভার মধ্যে হলেও ডায়মন্ডহারবার সংসদীয় ক্ষেত্রে পড়ছে। বিদায়ী পুরবোর্ডের এমন কিছু ওয়ার্ড আছে যেগুলি ২০টি বুথের চেয়েও কম এলাকা এবং ১০ হাজারের কম ভোটার আছে। যেমন ৪৯ ওয়ার্ডের ভোটার মাত্র ৯ হাজার। আবার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। উত্তরে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে যথাক্রমে ৫৮ ও ৫৯টি করে বুথ রয়েছে। আবার দক্ষিণে ৬৬, ৮১, ৯৩, ১০৯ ওয়ার্ডের বুথ সংখ্যা ৬০-এর আশপাশে। ভোটার সংখ্যাও ৫০ হাজারের কম বেশি।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক রবিবার জানিয়েছেন, কলকাতা পুরভোটের জন্য ডিলিমিটেশনের যে খসড়া তৈরি হচ্ছে, সেখানে ৫০-এর বেশি বুথ আছে এমন সমস্ত ওয়ার্ড ভেঙে দু'টুকরো হচ্ছেই। আবার উত্তর কলকাতার তিনটি ছোট ওয়ার্ড মিলিয়ে দু'টি গড়ার খসড়া তৈরি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা উত্তরের ৬০টি ওয়ার্ড ভেঙে কয়েকটি যেমন কমতে পারে তেমনই কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর ও টালিগঞ্জ এলাকায় সীমানা পুনর্বিন্যাসে এক ধাক্কায় অনেকগুলি কাউন্সিলর বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে কলকাতায় আগামী দিনে ওয়ার্ড বেড়ে ১৮৬ থেকে ২০৪টির মধ্যে হওয়ার সম্ভবনা প্রবল।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানাচ্ছে, ওয়ার্ড পিছু বুথ সংখ্যা ২৫ না ৩০ হবে তা নিয়ে নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত এলেই এ মাসের শেষে চূড়ান্ত খসড়া হবে। তারপর নিয়ম মেনে সর্বদলীয় বৈঠক, প্রকাশিত বুথের তালিকা ও সীমানা টাঙিয়ে দিয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে। পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, বর্তমানে যে ওয়ার্ডের ভোটার ৫০ হাজারের বেশি, ৬২টি বুথ আছে তিনিও যেমন কাউন্সিলর ফান্ডের ৩০ লাখ বরাদ্দ পাচ্ছেন তেমনি যাঁর ভোটার ৯ হাজার বা ২২টি বুথ তিনিও ওই একই অর্থ পাচ্ছেন। পাঁচগুণ বেশি ভোটারের এলাকায় তুলনামূলক কম বরাদ্দ পেয়ে নাগরিক পরিষেবা ঠিক মতো দিতে পারছেন না অনেক পুরপ্রতিনিধি। বিষয়টি নিয়ে বহুবার বড় ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা মেয়রকে দাবি জানিয়েও সুরাহা পাননি। কিন্তু কাউন্সিলরদের সেই দাবি পূরণে ডিলিমিটেশন করে ওয়ার্ডের আয়তন ও জনসংখ্যা সমপরিমাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
