shono
Advertisement

Breaking News

Kunal Ghosh

'স্বজনপোষণ চলছে', শপথ নিয়ে দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কুণাল, লিখলেন তাপস-সজলকে নিয়েও

বৃহস্পতিবার বিধায়ক পদে শপথ নিয়েছেন বেলেঘাটার জয়ী প্রার্থী কুণাল ঘোষ, তারপরই তাঁর ওই পোস্ট।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 04:25 PM May 14, 2026Updated: 04:52 PM May 14, 2026

সদ্য বিগত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের যে ৮০ জন জিতে বিধায়ক হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বৃহস্পতিবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েই দলের বিরুদ্ধে কার্যত বিস্ফোরক পোস্ট করলেন। বিধানসভার লড়াইয়ে তাঁকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানালেও দলের কিছু ত্রুটিবিচ্যুতির কথাও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, আজকের প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় এবং বিজেপি নবনির্বাচিত বিধায়ক সজল ঘোষকে সেসময় তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। উল্লেখ করেছিলেন, পরাজয়ের পর তৃণমূল কর্মীদের চাঙ্গা করতে আত্মবিশ্লেষণ জরুরি।

Advertisement

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তারা বিধায়ক। আমি তৃণমূলের সৈনিকই আছি। লড়াই চলবে। তবে যার বা যাদের জন্যে তাপসদা, সজলরা, আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে, তারপরেও একইরকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের।'

বৃহস্পতিবার কুণাল ঘোষ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ। ধন্যবাদ মাননীয়া দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধন্যবাদ বেলেঘাটা কেন্দ্রের নাগরিকদের। শপথ পাঠ করালেন মাননীয় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। দীর্ঘদিনের দাদা এবং নেতা। তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাপসদাকে ভালো বলায় আমাকে দল সাসপেন্ড করেছিল। ঘটনাচক্রে আমি আজ দলের বিধায়ক এবং শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জিতে আসা তাপসদার হাতে। ভাগ্যচক্র।'

পোস্টে সজল ঘোষকে নিয়ে তিনি লিখেছেন, 'পুরপিতাও বটে। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তারা বিধায়ক। আমি তৃণমূলের সৈনিকই আছি। লড়াই চলবে। তবে যার বা যাদের জন্যে তাপসদা, সজলরা, আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে, তারপরেও একইরকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের। এভাবে চললে কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করার লড়াইতে আত্মবিশ্লেষণটাও জরুরি। আমরা তৃণমূলের সৈনিকরা দলনেত্রীর নির্দেশে লড়ছি। জয় বাংলা।' কুণাল ঘোষের এই পোস্টে সম্প্রতি উত্তর কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেসের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের লড়াইকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কুণালের এহেন পোস্টকে অবশ্য বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ বর্ষীয়ান বিধায়ক তথা প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। এনিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘ওই দলের আত্মবিশ্লেষণ করেও কোনও লাভ নেই। যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি পিপলস পালস ভালো বোঝেন, দেওয়াল লিখন বোঝেন! দেখাই তো গেল, কেমন বুঝছেন।'' সজল ঘোষ বলছেন, ‘‘হ্যাঁ এটা ঠিক যে উনি রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তো ওঁর হাতে কিছু ছিল না। আর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যদি আমি থেকে যেতাম, তাহলে আজ 'চোর' স্লোগান শুনতে হতো।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement