বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজ্যজুড়ে একাধিক পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলররা গণ ইস্তফা দিচ্ছেন। এই আবহে সোমবার চারটি পুরসভা ও একটি পুরনিগমের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে মমতা বলেন, "দলের সুখের সময় থাকবেন, দুঃখের সময় থাকবেন না, তা হতে পারে না। তবে যে যাওয়ার চলে যেতে পারেন।" গতকালই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই পদে এবার প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দিল তৃণমূল।
সোমবার কালীঘাটের বাড়িতে উত্তর শহরতলির ৪টি পুরসভা – দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরানগর এবং বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করে মমতা। সেখানেই ইচ্ছুকদের চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বাকিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন তিনি। সকলকে মনে জোর নিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি আশাবাদী, দল ঘুরে দাঁড়াবেই। এছাড়া দলে যে সব কর্মীরা মার খাচ্ছেন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন মমতা।
দলের কর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য পাঁচজনের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন মমতা। এই কমিটিতে রয়েছেন মলয় ঘটক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। দু'দিন আগে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের মৃত্যুতেও শোকপ্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। উপস্থিত কাউন্সিলরদের সঞ্জয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন তিনি। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিবাদে কর্মসূচি করতে চেয়ে মমতার কাছ থেকে অনুমতি চান কয়েকজন কাউন্সিলর। তাতে মমতা জানান, প্রতিবাদ করতে চাইলে করতে পারেন। কাউন্সিলরদের থানায় গিয়ে ডেপুটেশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার রাজ্যের পুরসভাগুলি নিয়ে চিন্তায় তৃণমূল কংগ্রেস। এই মুহূর্তে রাজ্যের পুরসভাগুলি তৃণমূলের হাতে থাকলেও সম্প্রতি রাজনৈতিক চাপে সেসবের জায়গায় টলমল অবস্থা। একের পর এক পুরসভা থেকে পুরপ্রতিনিধিদের ইস্তফা, বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় রীতিমতো অশনি সংকেত। কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর বারাকপুর-সহ বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলররা গণ ইস্তফা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মমতা ইচ্ছুক কাউন্সিলরদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
