কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরে ঝড়বৃষ্টির ফলে বৃহস্পতিবার মাঝ আকাশে বিপাকে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্ডাল থেকে কলকাতা ফেরার পথে প্রায় দেড়ঘণ্টা মাঝ আকাশে চক্কর কাটে তাঁর বিমান। এই প্রসঙ্গে প্রথমবার মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার দুপুরে কলকাতা থেকে অন্ডাল যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালের বিমানের পাইলটকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বলেন, "দেখুন পাইলট খুব ভালো ছিল। আমাদের জীবন বাঁচাতে তিনি তাঁর সেরাটা দিয়েছেন। এর থেকে আমি আর কিছু বলব না।"
পাইলটকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি বলেন, "দেখুন পাইলট খুব ভালো ছিল। আমাদের জীবন বাঁচাতে তিনি তাঁর সেরাটা দিয়েছেন। এর থেকে আমি আর কিছু বলব না।"
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে ৩৯ মিনিট নাগাদ অন্ডাল থেকে বিমানে চড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩টে ৫৫ মিনিটে দমদম বিমানবন্দরে বিমানটির নামার কথা ছিল। কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর ঠিক আগেই ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। বিমানবন্দরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমানটি এটিসির কাছ থেকে অবতরণের অনুমতি চায়। যদিও তা মেলেনি। বরং পাইলটকে হোল্ড করতে অর্থাৎ আকাশে থাকতে বলা হয়। তখন আকাশে একই অবস্থায় ছিল আরও তিনটি বিমান। ঝড়, শিলাবৃষ্টিতে দৃশ্যমানতা এতটাই কম ছিল যে তা বিমান ওঠানামার জন্য নিরাপদ নয়। মুখ্যমন্ত্রীও জানালা দিয়ে সেই পরিস্থিতি চাক্ষুস করেন।
সমস্যার কথা ঘোষণা করা হয় অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেমেও। বড় বিপদ এড়াতে তখন কলকাতা থেকে সরে গিয়ে পান্ডুয়া-চাকদহ-পায়রাডাঙা-কালনা-জিরাটের আকাশে ঘুরতে থাকে ফ্যালকন বিমানটি। একসময় ঠিক হয়, জ্বালানির অবস্থা বুঝে অন্ডাল অথবা রাঁচি বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে গিয়ে নামতে পারে বিমানটি। প্রয়োজনে বেহালায় ছোট বিমান নামার সুবিধা থাকায় তার কথাও ভাবা হয়। কিন্তু সেই পরিস্থিতি ছিল না। কালো মেঘ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য আকাশে কমপক্ষে ঘণ্টাদেড়েক চক্কর কাটে উড়ানটি। অবশেষে বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে বিমানবন্দরে নামে মমতার বিমান। বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পান মুখ্যমন্ত্রী।
