ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। একাধিক বিধায়ক, লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা শিবির বদল করেছেন। প্রতীক নিয়ে জারি লড়াই। এই সমস্ত টানাপোড়েন পেরিয়ে আগামী ২১ জুলাই থেকে নতুন করে পথচলা শুরু করবে 'কালীঘাট তৃণমূল'। তার আগে এখনও তৃণমূলে থাকা বাকিদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি, "দলত্যাগ কিংবা শিবির বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন।"
বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, "যাদের যাদের যাওয়ার আছে বিজেপির চাপে, পুলিশ, ইডি, সিবিআই, সিআইডি, আইসি, ওসি, এসটিএফ, মামলার চাপে। তাদের হাতজোড় করে বলব যাদের যাদের যাওয়ার আছে ২১ জুলাইয়ের আগে যার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, লোটাকম্বল নিয়ে চলে যান। দয়া করে আমরা যে দল তৈরি করেছি, তাকে কলুষিত করবেন না। আপনি দল ছাড়তেই পারেন, তাতে আমরা দুর্বল হব না।" তিনি আরও বলেন, "আগামী ২১ জুলাই নতুন করে পথচলা। কে আসলেন, কে আসলেন না তাতে কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে তারাই স্বর্ণখনি। নতুন করে পথচলা শুরু করব আমরা।" ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ প্রসঙ্গে এদিন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, "শহিদ পরিবারদেরও ভয় দেখিয়ে বালিশ শিবিরে নিয়ে যাচ্ছে শুনলাম। যান, তবে আপনাদের হৃদয় আমাদের সঙ্গেই থাকবে জানি"
ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে দলত্যাগের হিড়িক ওঠে। জুনের প্রথম দিকে রাজ্যসভা থেকে পরপর ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক। সেসময় কোয়েলও নিজের ইস্তফাপত্র ইমেলের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন বলে খবর। কিন্তু সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি উপ রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ। কোয়েলকে সশরীরে সংসদে দেখা করার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র হাতে নিয়ে কোয়েল দেখা করেন চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে। ১৬ জুলাই, মাত্র ২ মাস ১০ দিনের মধ্যেই তাঁর এই ইস্তফা। পদ ছেড়েই এদিন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ সাংগঠনিক নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন। এই প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন মমতা। রাজ্য়সভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেও কোয়েলকে ধন্যবাদ জানান।
