সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুচিপাড়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে জঙ্গি বুরহান। বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট থেকে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ(জেএমবি) জঙ্গি সংগঠনের ওই মাথাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের আধিকারিকরা। এদিকে এর মধ্যেই সামনে এসেছে এক আশ্চর্য তথ্য। এতদিন কাঠের ও কলের মিস্ত্রি হিসেবেই মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানা এলাকার পূর্ব নাজিরচকে লুকিয়েছিল সে। এমনকী পসার জমিয়েছিল বেশ ভাল মতোই।
[নারদ কাণ্ডে এবার সিবিআইয়ের নোটিস ফিরহাদ হাকিমকে]
এখনও স্থানীয় মানুষরা বিশ্বাস করতে পারছেন না কাঠের মিস্ত্রি রাইহান শেখই খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত। কাঠের পাশাপাশি কলের মিস্ত্রি হিসাবেও পসার জমিয়ে নিয়েছিল বুরহান শেখ। রানিতলার মানুষ অবশ্য তাকে চিনত রাইহান শেখ নামে। তিনবছর আগে আবার ফিরে এসেছিল বাড়িতে। দাড়ি-গোঁফ কেটে বিলকুল বদলে গিয়েছিল। তবে এত কিছুর পরও পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাত থেকে পার পেল না বুরহান। মুর্শিদাবাদ থেকে শিয়ালদহ স্টেশন হয়ে কলকাতায় পা দিতেই ধরা পড়ে গেল পুলিশের জালে। ফের জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল বুরহান। সেই কারণেই একজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল সে। পুলিশের আশঙ্কা, আরও কোনও বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল এই জঙ্গি। যেহেতু বিস্ফোরণের তদন্তভার নিয়েছিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ, তাই আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাদের হাতেই বুরহানকে তুলে দেবে কলকাতা পুলিশ।
[পুজোর ভিড় সামলাতে নয়া দাওয়াই মেট্রো কর্তৃপক্ষর]
বুরহানকে গ্রেপ্তার করাটা এসটিএফ-এর অন্যতম বড় সাফল্য। বুরহানের স্ত্রী ও অন্য অভিযুক্তদের খোঁজেও চালাচ্ছে এসটিএফ। বুরহানকে বৃহস্পতিবার রাতেই বেশ কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সময়ই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পায় এসটিএফ। খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত ২০১৪ সালের ২ অক্টোবরের পর থেকে খুঁজছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। বাড়িতে বোমা বাঁধতে গিয়ে সেই বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যু হয়। তার সন্ধান দিতে পারলে তিন লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল এনআইএ। এবার সেই টাকা এসটিএফ-এর তদন্তকারী অফিসারদের দেওয়া হতে পারে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই উত্তর ২৪ পরগনার দু’টি জায়গা থেকে কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল জেএমবি জঙ্গি মৌলানা ইউসুফ ও তার পাঁচ সঙ্গী। শুক্রবার জেএমবি-র প্রশিক্ষিত সদস্য বুরহানকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। শিয়ালদহ স্টেশন হয়ে ভিনরাজ্যে নাকি যাওয়ার কথা ছিল তার। এর আগে ঝাড়খণ্ড ও দক্ষিণ ভারতেও যায় বলে খবর। শুধু তাই নয়, বুরহান নাকি মোবাইলও ব্যবহার করত না। এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
[গ্রেপ্তার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মূলচক্রী বুরহান শেখ]
The post কাঠের মিস্ত্রি সেজে গা ঢাকা খাগড়াগড় কাণ্ডের মূল চক্রী বুরহানের appeared first on Sangbad Pratidin.
