shono
Advertisement

রহড়ায় মাশরুম-ম্যাজিক! ছাতুর ছোবলে নিকেশ ক্যানসার

প্রফেসর সিউডোমনাসের গবেষণা বিপ্লব। The post রহড়ায় মাশরুম-ম্যাজিক! ছাতুর ছোবলে নিকেশ ক্যানসার appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 09:23 AM Feb 05, 2018Updated: 09:38 AM Feb 05, 2018

গৌতম ব্রহ্ম: বাংলার মাশরুমে লুকিয়ে ক্যানসারের খুনি!

Advertisement

স্তন, জরায়ুমুখ, অগ্ন্যাশয়ে বাসা বাধা কর্কটরোগকে অনায়াসে খুন করতে পারে বেশ কয়েকটি মাশরুম। অনেকটা ‘কেমোথেরাপি’-র স্টাইলেই। ক্যানসার কোষ ও ইঁদুরের উপর গবেষণা শেষ। ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ সফল হলেই ক্যানসারের ওষুধ তৈরিতে ইতিহাস গড়বে বাংলা থুড়ি ভারত। এমনই বিস্ফোরক ‘সুখবর’ শুনিয়ে গেলেন ড. আনন্দমোহন চক্রবর্তী। যিনি ‘প্রফেসর সিউডোমোনাস’ বলেই খ্যাত।

[ক্যানসার দূরে রাখতে তালিকা থেকে বাদ দিন এই ৭ খাবার]

আনন্দমোহনবাবুর তত্ত্বাবধানে মাশরুম নিয়ে ২ বছর ধরে গবেষণা চালাচ্ছে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ শতবার্ষিকী কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ। নেতৃত্বে বটানি বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপনকুমার ঘোষ। সেখানকার ক্যানসার গবেষণাকেন্দ্রে এই ‘মাশরুম-বিপ্লব’ ঘটেছে। একদল বিজ্ঞানী কয়েক ডজন মাশরুমের ময়নাতদন্ত করে খুঁজে বের করেছেন ‘বিটা গ্লুকান পলিস্যাকারাইড’। যা কেমোথেরাপির মতো খুঁজে খুঁজে ক্যানসার কোষকে মারতে পারে। এমনটাই দাবি জানালেন স্বপনবাবু। বললেন, “ক্যানসার প্রতিরোধেও দারুণ কাজ করে এই পলিস্যাকারাইড। প্রাণীদেহে মজুত ‘টি সেল’ ও ‘বি সেল’-কে প্রভাবিত করে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। যার ফলে, ক্যানসারের জীবাণু ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারবে না।” মাশরুম খেলেও কাজ হবে। অনেকে মাশরুম সিদ্ধ করে জল ফেলে দেন। তা করলে হবে না। ওই জলেই থাকে পলিস্যাকারাইড, দাবি গবেষকদের।

ইতিমধ্যেই মাশরুমের ম্যাজিক নিয়ে ‘নিউ ইয়র্ক সায়েন্টেফিক জার্নাল’-এ পেপার প্রকাশিত হয়েছে। স্বপনবাবু জানালেন, “২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারের আর্থিক সহিযোগিতায় প্রকল্পটি শুরু হয়। ওই বছরই ‘দুধ ছাতু’-র উপর একটি পেপার প্রকাশিত হয়। আরও সাতটি পেপার বেরনোর জন্য তৈরি হয়ে আছে। এখানে বাটন মাশরুম, কান ছাতুর ক্যানসার-ঘাতক ক্ষমতা নিয়ে গবেষণালব্ধ ফল রয়েছে।” ‘লিংজাইটিস’ ও ‘ডালডানিয়া কনসেন্ট্রা’ নামে দু’টি বন্য মাশরুমের উপকারিতাও পেপার-বন্দি করা হয়েছে। ‘পেটেন্ট’ সংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতার জন্য অবশ্য গবেষণালব্ধ গূঢ় তত্ত্ব নিয়ে নীরবতাই অবলম্বন করেছেন স্বপনবাবুরা। শুধু আনন্দমোহনবাবু জানিয়েছেন, মাশরুমের এই ক্যানসার সারানোর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত সরকারের উচিত ‘অ্যান্টি ক্যানসার ড্রাগ’ তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া। এতে অর্থনৈতিকভাবেও দেশ বিরাট লাভবান হবে। রাজ্যের বিশিষ্ট অঙ্কোসার্জন ডা. গৌতম মুখোপাধ্যায় ও পিজি হাসপাতালের স্তন ক্যানসার বিভাগের সার্জন ডা. দীপ্তেন্দ্র কে সরকারও আনন্দমোহনবাবুর সঙ্গে একমত। জানালেন, “বিশ্ব ক্যানসার দিবসে এর থেকে ভাল খবর আর কি হতে পারে? এই গবেষণা থেকে অ্যান্টি-ক্যানসার ড্রাগ বেরোলে ক্যানসার চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটবে। কোনও সন্দেহ নেই। আশা করব, হিউম্যান মডেলেও সফল হবেন আনন্দমোহনবাবুরা।”

[ধূপের ধোঁয়া সিগারেটের থেকেও ক্ষতিকর, হতে পারে ক্যানসারও!]

জীবাণু নিয়ে গবেষণায় বিশ্বজোড়া খ্যাতি আনন্দমোহনবাবুর। তেল-খেকো ব্যাকটেরিয়া ‘সিউমোনাস পুটিডা’—র পেটেন্ট সাঁইথিয়ার এই বঙ্গসন্তানের নামেই। সম্প্রতি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের এই প্রাক্তনী বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিডের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ‘পি-২৮’ নামে একটি অ্যান্টি-ক্যানসার ওষুধ তৈরি করেছেন। যা মস্তিষ্কের ক্যানসার মোকাবিলায় খুবই কার্যকর। এই ওষুধটিকে উন্নত করার প্রকল্পটিও চলছে স্বপনবাবুদের বটানি বিভাগে। সম্প্রতি ক্যানসার রোধে মাশরুমের উপকারিতা নিয়ে একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে আসেন আনন্দমোহনবাবু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজি’-র অধিকর্তা অধ্যাপক শমিত চট্টোপাধ্যায়, বোস ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. সুব্রত মজুমদার, চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতালের সহ-অধিকর্তা ডা. রথীন্দ্রনাথ বড়াল, শিকাগোর ইলিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। প্রত্যেকেই স্বপনবাবুদের এই আবিষ্কারকে মান্যতা দিয়েছেন। অবাক হয়েছে এত স্বল্প পরিসরে এত বড় গবেষণাযজ্ঞ দেখে। সত্যি, মাশরুম-ম্যাজিক!

[শিশুর ক্যানসারের নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, ফের সক্রিয় অসাধু চক্র]

The post রহড়ায় মাশরুম-ম্যাজিক! ছাতুর ছোবলে নিকেশ ক্যানসার appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার