নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জের। ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল 'শিখা ইন' আপাতত অনির্দিষ্টকালের বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের ১৬টি বরোর বাণিজ্যিক কাঠামোর নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে।
নিউ মার্কেটের অগ্নিদগ্ধ হোটেল। ছবি: পিণ্টু প্রধান
ওই হোটেলটিতে যে পুরসভার নজরদারির খামতি ছিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। এছাড়া কোথায়, কী ত্রুটি রয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে বলেই জানান পুর কমিশনার। বিল্ডিং বিভাগের কাছ থেকে সে সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৫ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। তাতে পুরসভার লাইসেন্স বিভাগকে যক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কেএমডিএ, কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসসি-র প্রতিনিধিরাও থাকবেন। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শহরের ১৬টি বরোর অধীনে থাকা সমস্ত বাণিজ্যিক আবাসনগুলির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, লাইসেন্সের মেয়াদ খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া মার্কেট, হোটেল এবং অন্যান্য জনবহুল জায়গাগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি। তারপর আগামী ১ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে কমিটিকে। অবিলম্বে ফায়ার অডিট সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালও।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোররাতেই 'অভিশপ্ত' হোটেল থেকে একে একে ৮০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি।
তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এসি বিস্ফোরণের জেরে এই পরিণতি হয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে, এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ।
