shono
Advertisement

এবার বারোয়ারি পুজোর বিজ্ঞাপনী চটকে রাশ টানতে উদ্যোগী পুরসভা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: টিজারেই বেজায় চমক। আর তাতেই সরগরম পুজোর বাজার। এর পরিণাম যে কী ভয়াবহ হতে পারে তার সাক্ষীও থেকেছে মহানগর। বছর দু’য়েক আগে এমনই এক টিজারের মোহে পড়ে গোটা রাজ্য ছুটেছিল এক গন্তব্যে। আর তাতেই শহর জুড়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। হুড়োহুড়ি চাপাচাপির বহর এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, শেষমেশ মাঝপথে বন্ধ করে দিতে হয় […] The post এবার বারোয়ারি পুজোর বিজ্ঞাপনী চটকে রাশ টানতে উদ্যোগী পুরসভা appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 07:52 PM Jul 03, 2017Updated: 02:47 AM Jul 04, 2017

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: টিজারেই বেজায় চমক। আর তাতেই সরগরম পুজোর বাজার। এর পরিণাম যে কী ভয়াবহ হতে পারে তার সাক্ষীও থেকেছে মহানগর। বছর দু’য়েক আগে এমনই এক টিজারের মোহে পড়ে গোটা রাজ্য ছুটেছিল এক গন্তব্যে। আর তাতেই শহর জুড়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। হুড়োহুড়ি চাপাচাপির বহর এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, শেষমেশ মাঝপথে বন্ধ করে দিতে হয় সে পুজো। ফিলহাল এটাই যেন ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিজারের চমকে পুজোর ভিড় টানার এই প্রতিযোগিতায় এবার রাশ টানতে পুজোর অনেক আগেই উদ্যোগী প্রশাসন। এমন চমকের টিজার দেওয়া যাবে না, যাতে পুজোর ভিড় এক মণ্ডপকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে বা শহরে কোনও সমস্যা তৈরি করে। সম্প্রতি পুজোকমিটিগুলির কাছে এমন নির্দেশিকা পাঠানোরই সিদ্ধান্ত নিল পুরসভা।

Advertisement

[ অগ্নিকাণ্ডের জেরে অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে দায়ের FIR ]

গত দুই দশকে বাঙালির দুর্গাপুজোর চালচিত্রে ব্যাপক রদবদল। শহর তো বটেই, থিমের পুজো দখল করেছে শহরতলিও। তার সঙ্গে সঙ্গত রেখেই যেন জুড়েছে প্রচারের বাদ্যি। তা এমন মাত্রাছাড়া যে, পুজোর সময় দেখা যায় শহর যেন দ্বিধাভক্ত। একদিকে উপচে পড়ছে ভিড়। অন্যদিকে সৃষ্টির ডালি সাজিয়েও মাছি তাড়াচ্ছে বেশ কিছু পুজোকমিটি। এদিকে ভিড় এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শহর যেন বেসামাল। ২০১৫ সালে দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গাপুজো ভোলেনি বাঙালিরা। পুজো নিয়ে এমন রাজ্যব্যাপী উন্মাদনা বোধহয় আগে দেখা যায়নি। তার ফলও হয়েছিল খারাপ। শহরের একাধিক রাস্তা মানুষের চাপে বন্ধ হয়ে যায়। শেষমেশ মাঝপথে বন্ধ করে দিতে হয় সে পুজো। মণ্ডপ ঢাকা পড়লেও কৌতুহলী জনতার উঁকিঝুঁকিতে অন্ত ছিল না। পুজো নিয়ে এমন পাগলামিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল প্রশাসনকে। এর নেপথ্যে ছিল নিখুঁত প্রচার। যেভাবে পুজোর ক্যাম্পেন করা হয়েছিল তাতেই এই বিপুল জনসমাগম ও শেষমেশ বিপত্তি। এই ঘটনার পরের বছরও কমবেশি একই ছবি দেখা গিয়েছিল ওই পুজো মণ্ডপে। আবারও সেই চমকের বিজ্ঞাপনেই ভিড়ের ঘনঘটা। একই রকম ক্যাম্পেন চালাচ্ছে অন্যান্য পুজোকমিটিগুলিও। এই প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে পুজোর ভিড় ততই এককেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা মেটাতে এবার উদ্যোগী হল পুরসভা। চটকদারী পুজোর টিজারে এবার রাশ টানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন পুজোর অনুমতি দিত পুরসভার ‘পার্কস অ্যান্ড স্ক্যোয়ার’ ডিপার্টমেন্ট। এবার সেই বিভাগের অনুমতির পরও কিছু বিধিনিষেধ থাকবে বলেই খবর পুরসভা সূত্রে। মেয়র জানিয়েছেন, আনন্দের উদ্দেশ্য আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বিজ্ঞাপনের অছিলায় কোনও একটি বিশেষ পুজোর উপর কনসেনট্রেশন যেন না করানো হয়। শহরের সব পুজোর মধ্যে যেন ভারসাম্য থাকে।” এছাড়া পুজোকমিটিগুলি যে ফর্ম ফিল আপ করে, তাতে যা অঙ্গীকার করা হয়, তা যেন অক্ষরে অক্ষরে মানা হয় সেদিকেও নজর রাখবে পুরসভা। পুজো বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনার কোনওভাবেই পুনরাবৃত্তি চাইছে না পুরসভা।

নারদ-কাণ্ডে সিবিআই দপ্তরে হাজির সাংসদ সুলতান আহমেদ ]

এদিকে প্রশ্ন উঠছে, পুজো করা তো দর্শক টানার জন্যই। তাই-ই যদি না হয় তাহলে আর পুজোর আকর্ষণ থাকল কোথায়? ঠিক এ প্রশ্ন তুলেই সন্তোষপুর লেকপল্লির কর্মকর্তা সোমনাথ দাস জানালেন, “কোথাও কোনও আইনে কিন্তু লেখা নেই যে টিজার দিয়ে লোক টানা যাবে না। আমরা পুজো করিই তো আমাদের কাজ দর্শকের সামনে এমনকী বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য। সেটাই যদি না করতে পারি তাহলে আর কী থাকল? বিশ্বকাপ ফুটবল হবে আর আপনি পেলে-মারাদোনার ছবি না দিয়ে বাসুদেব মণ্ডলের ছবি দেবেন তা তো হয় না।” ২০১৫ সালে দেশপ্রিয় পার্কে পুজোয় সমস্যা হয়েছিল তা মেনে নিয়েই সোমনাথবাবু জানান, “পরের বছরও কিন্তু টিজার ছিল। এবং তখন কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। তাহলে নিশ্চয়ই ওরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এটাই বুঝতে হবে। তাহলে এখন আবার এই সিদ্ধান্ত কেন?” হয়তো এরকম পুজোর জন্য অনেক নেতা-মন্ত্রীর পুজোর অসুবিধা হয়ে যাচ্ছে। তাই টিজারের উপর রাশ টানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ সোমনাথবাবুর। তাঁর দাবি, যদি এরকম কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তবে ফোরামই তার প্রতিবাদ করবে। কেননা ফোরাম তৈরিই হয়েছে প্রশাসনের সঙ্গে পুজো কমিটিদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য। এদিকে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সাধারণ সম্পাদক প্রতীক চৌধুরী জানাচ্ছেন, “কে কীভাবে পুজোয় দর্শক টানবে সেই স্বাধীনতা ক্লাবের হাতেই থাকা উচিত। এখানে হস্তক্ষেপ না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবে সেই সঙ্গে কিছু সামাজিক দায়িত্বও আছে। সুস্থভাবে দর্শক যাতে পুজো উপভোগ করেন, তা নিশ্চিত করাও আমাদের কর্তব্য। একদিকে ক্লাবের পুজোয় লোক টানার চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে সুস্থ পরিবেশও বজায় থাকবে, বাংলার পুজোয় এই সমন্বয়টাই থাকুক, এটাই চাই আমরা।”

বর্ষার রেশ কাটেনি। বাঙালির ঘরদুয়ারে শারদীয়া রোদ পড়তে এখনও বেশ খানিকটা বাকি। তবে পুজোর ঢাকে বিতর্কের কাঠি যে পড়েই গেল, তা যেন আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

The post এবার বারোয়ারি পুজোর বিজ্ঞাপনী চটকে রাশ টানতে উদ্যোগী পুরসভা appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার