ইচ্ছে ছিল কলকাতার বুকে নিজের ফ্ল্যাট কেনার। তাই দিন পনেরো আগে পটাশপুরের বাড়িতে গিয়ে বাবার থেকে ২ লক্ষ টাকা এনেছিলেন এনআরএসের মৃত নার্স। কিন্তু আচমকাই মেয়ের মৃত্যুর পেয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে মৃতার পরিবারের। পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ঘটনার সঠিক তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর বিধানসভার সাউথখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা ওই নার্স। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অত্যন্ত কষ্ট করে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিলেন তরুণী। কৃষক পরিবারের সন্তান ওই তরুণীর পড়াশোনার প্রতি বরাবরই আগ্রহ ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় ১৫ দিন আগে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন তরুণী। মৃতার বাবা জানান, বুধবার রাতে হঠাৎ তাঁর জামাই ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেন। খবর পাওয়ার পর থেকেই গোটা পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা পরিবারের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের দাবি, মেয়ে অত্যন্ত ভালো ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অভিযোগ বা খারাপ আচরণের কথা তাঁরা কখনও শোনেননি। তাই এই মৃত্যুর নেপথ্যে কী ঘটনা আছে, তা জানতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে হবে। ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ঘটনার সঠিক তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, তদন্তে যদি কোনও গাফিলতি বা অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তাহলে তাঁরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতেও পিছপা হবেন না। উল্লেখ্য, ওই নার্সের মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে তবেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত গোটা বিষয়টাই রহস্য।
