অর্ণব আইচ: তিলজলার ফ্ল্যাটে নাবালিকার যৌন নিগ্রহের পর খুন। ঘটনার ৮৪ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত অলোককুমার সাউয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। শুক্রবার আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতে প্রায় ২৫০ পাতার চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। এই চার্জশিটে ৬৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রথমে তিলজলা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীকালে তদন্তের দায়িত্ব নেয় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা। এই চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ মার্চ তিলজলার বাসিন্দা এক ন’বছরের নাবালিকাকে রাস্তা থেকে মুখ চেপে বাড়ির ভিতর নিয়ে আসে অভিযুক্ত।
তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় সে। ফ্ল্যাটেই নাবালিকার যৌন নিগ্রহ করা হয়। নাবালিকা বাধা দিলে তাকে নৃশংসভাবে খুন করে সে। এর পর প্রমাণ লোপাটের জন্য মেয়েটির দেহ একটি ব্যাগে ভরে রেখে দেয় সে। নিখোঁজ নাবালিকার সন্ধানে সারা বাড়িজুড়ে পুলিশ তল্লাশি চালায়। অলোকের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ।
[আরও পড়ুন: প্রায়শ্চিত্তর ‘পুরস্কার’? তপনে দণ্ডি কাটা আদিবাসী গৃহবধূই পঞ্চায়েত সমিতির TMC প্রার্থী]
এই ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রথমে অভিযুক্ত কোনও কাপালিকের নির্দেশে নরবলি দিয়েছে বলে দাবি জানায়। যদিও এই বিষয়টি চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়নি। কারণ, তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, নিজের যৌন কামনা চরিতার্থ করতেই অভিযুক্ত ওই নাবালিকাকে ‘অপহরণ’ করে।
যৌন নিগ্রহের সময় নাবালিকা বাধা দিতেই তাকে খুন করে সে। চার্জশিটে তার নৃশংসতাও তুলে ধরা হয়। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, খুন, প্রমাণ লোপাট ও পকসো আইনে মামলা হয়। এরপর অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
