চিংড়িহাটা মেট্রো নিয়ে জটিলতা দীর্ঘদিনের। তৃণমূল সরকারে পতন হতেই জটিলতা কাটিয়ে শুরু হয়েছে কাজ। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের সূচনা ভাষণে মেট্রো ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বেআইনিভাবে দখল করা রেলের জমি পুনরুদ্ধার নিয়েও রাজ্যের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন জানালেন। আগামীতে কর্মসংস্থান হবে, দুর্নীতি মুক্ত নিয়োগ হবে, কাজ পাবে বাংলার যুবক-যুবতীরা, সেই আশ্বাস শোনা গেল ভাষণে।
কলকাতার লাইফ লাইন মেট্রো। সহজে গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের ভরসা পাতালপথ। গোটা কলকাতাকে মেট্রোপথে সংযুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে কেন্দ্র। একাধিক নতুন রুট চালু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে ছিল নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রোর মাত্র ৩৬৬ মিটারের কাজ। অংশটি চিংড়িহাটায়। গতবছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। জল গড়ায় আদালতে। মেট্রো, রাজ্য-সহ সবপক্ষকে বৈঠকে বসার কথা বলা হয়। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। কারণ, রাজ্য সরকার ওই অংশে কাজের জন্য বাইপাসের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার অনুমতি দিচ্ছিল না। জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। রাজ্যে পালাবদল হতেই জটিলতা কাটিয়ে শুরু হয়েছে মেট্রোর কাজ। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের সূচনা ভাষণে মেট্রোর কাজ আটকে রাখার জন্য তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল। বললেন, "দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল মেট্রোর কাজ। নতুন সরকার এসে তা শুরু করেছে।"
বর্তমানে রাজ্যের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। ঠিক না ভুল, তা নিয়ে নানামুণির নানামত। ভাষণে রেলের জমি পুনরুদ্ধারের কথাও শোনা গেল রাজ্যপালের মুখে। তিনি বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা জমি পুনরুদ্ধার হচ্ছে।" উল্লেখ্য, রেলের জমি দখল করে রাখা হয়েছে। এই দাবিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে রাজ্য। যদিও পুনর্বাসন না দিয়ে কেন উচ্ছেদ, তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল বামেরা। বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছে, লাইসেন্স থাকলে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না। তবে আপাতত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
