shono
Advertisement
Ranjit Das

বাংলা কবিতায় অনন্য অবদান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট পাচ্ছেন রণজিৎ দাশ

রণজিৎ দাশের সঙ্গে এ বছর ডি-লিট পাচ্ছেন বেঙ্গালুরুর ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদ ফাদার থমাস।
Published By: Kishore GhoshPosted: 03:23 PM Feb 19, 2026Updated: 04:54 PM Feb 19, 2026

বাংলা কবিতায় অনন্য অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) ডি-লিট সম্মান পাচ্ছেন কবি রণজিৎ দাশ (Ranjit Das)। সাতের দশকের বাংলা কবিতার নিভৃত সম্রাট তিনি। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত 'আমাদের লাজুক কবিতা' চমকে দিয়েছিল বঙ্গীয় সারস্বত সমাজকে। স্বতন্ত্র কাব্যশৈলী, নগর সংবেদনশীলতা এবং বৌদ্ধিক পরিশীলন রণজিতের কাব্যের ঐশ্বর্য। কার্যত এই সাধনাকেই স্বীকৃতি দিতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আগামী সমাবর্তন সভায়।

Advertisement

তাঁর ডি-লিট সম্মান আসলে বাংলা কবিতার স্বীকৃতি, মনে করেন রণজিৎ। এই বিষয়ে রবীন্দ্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি বলেন, "বিষয়টিকে গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে দেখছি। আমার জীবনের বিরাট সম্মান। এক সময়ে এই ডি-লিট পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভাবলে তো হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়! বাংলা কবিতার প্রতিনিধি হিসাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (Calcutta University) কর্তৃপক্ষ যে সম্মান আমাকে দিচ্ছেন, তা বড় প্রাপ্তি। আমি আপ্লুত এবং কৃতজ্ঞ।" ডিজিটাল যুগে অ্যাকচুয়াল থেকে ক্রমশ ভারচুয়ালে হেলে পড়ছে পৃথিবী, সেখানে কবি ও কবিতার অবস্থান ঠিক কেমন? রণজিতের বক্তব্য, "আমি ঘোষিত ভাবে অ্যান্টি ডিজিটাল অ্যাক্টিভিস্ট। সোশাল মিডিয়াতে নেই। সৃজনশীলতা নির্ভর করে প্রকৃত বাস্তবতার উপর। ভারচুয়াল বাস্তবতা সৃজনশীলতার ভয়ংকর ক্ষতি করে। এটা আমার বক্তব্য নয়, সমাজবিজ্ঞানীদের বক্তব্য। কিন্তু অরণ্যে রোদন! কারণ অধিকাংশই ডিজিটাল-মাদকে আশক্ত।" যোগ করেন, "কবিরা তো মানুষের হৃদয়কে শাসন করেন। একজন কবি হলেন মহাকালের প্রহরী। ঋকবেদের কবিরা যে মূল্যবোধ নিয়ে মহাকাব্য লিখেছেন, এখনও কবির মূল্যবোধ সেই তারেই বাঁধা। কিচ্ছু পালটায়নি। অতএব, ভারচুয়ালে ভেসে গেলে চলবে না। চিরকাল হৃদয় দিয়েই পৃথিবীকে শাসন করবেন একজন কবি।"

স্বতন্ত্র কাব্যশৈলী, নগর সংবেদনশীলতা এবং বৌদ্ধিক পরিশীলন রণজিতের কাব্যের ঐশ্বর্য।

১৯৪৯ সালে অসমের শিলচরে জন্ম রণজিৎ দাশের। 'আমাদের লাজুক কবিতা' ছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার ও বীরেন্দ্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কবির রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল 'জিপসীদের তাঁবু', 'সময়, সবুজ ডাইনি', 'বন্দরের কথ্যভাষা', 'ঈশ্বরের চোখ', 'সন্ধ্যার পাগল', 'সমুদ্র সংলাপ', 'শহরে নিস্তব্ধ মেঘ', 'ধানখেতে বৃষ্টির কবিতা', 'অসমাপ্ত আলিঙ্গন', 'বিষাদসিন্ধুর কিছু লেখা'। এছাড়াও উপন্যাস 'বিয়োগপর্ব', প্রবন্ধ সংকলন 'খোঁপার ফুল বিষয়ক প্রবন্ধ'-এর স্রষ্টা এই কবি। সাজ্জাদ শরিফের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন 'বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা'।

প্রসঙ্গত, রণজিৎ দাশের সঙ্গে এ বছর ডি-লিট পাচ্ছেন বেঙ্গালুরুর ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদ ফাদার থমাস। ডি-লিট ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্মান দেওয়া হবে আগামী ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এ বছরের সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে ক্যাম্পাসেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী হলে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement