আর জি কর মামলায় (RG Kar Case) নয়া মোড়। সিবিআই চাইলে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়কে নতুন করে জেরা করতে পারে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় অনেক কিছুই জানে বলে মনে হয়। তাই তাকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমস্ত আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করুক সিবিআই। একদিকে আর জি করের নির্যাতিতার মা এই বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন বিজেপির প্রার্থী হয়ে, অন্যদিকে তাঁর মেয়ের মামলায় নতুন করে সিবিআইকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জানালেন, সিবিআই প্রয়োজন মনে করলে আবারও সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় এবং অন্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তদন্তের স্বার্থে সিবিআই যেন কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দ্বিধা না করে।
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালের পিজিটি তরুণীকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল বঙ্গে। সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তার বেহাল দশা নিয়ে ডাক্তাররা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছেন। বদলি হতে হয়েছে কলকাতার পুলিশ সুপারকেও। আর জি কর কাণ্ডের জেরে বছরভর রাজ্যে প্রতিবাদের পরিবেশ জারি ছিল। যদিও ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিবিআই তদন্তের পর সেই সঞ্জয়কেই দোষী সাব্যস্ত করে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় তার।
এই অবস্থায় তাঁরা ফের মেয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়ে আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন। নতুন করে ঘটনাস্থলও ঘুরে দেখতে চান। হাই কোর্ট তা মঞ্জুর করেছিল। তবে সিবিআইয়ের আপত্তিতে সেই কাজ আর হয়নি। এদিকে রাজ্যে ভোটের হাওয়া বইতেই আর জি করের নির্যাতিতার মা রাজনীতিতে যোগ দিয়ে গেরুয়া শিবির থেকে ভোটের প্রার্থী হন। এরপর বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জানালেন, সিবিআই প্রয়োজন মনে করলে আবারও সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় এবং অন্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তদন্তের স্বার্থে সিবিআই যেন কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দ্বিধা না করে। এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, মৃত চিকিৎসকের পরিবার নতুন করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চেয়েছে। তাতে সিবিআইয়ের কোনো আপত্তি নেই। তাহলে রাজ্যের আপত্তি কোথায়? সিবিআই যদি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তাহলে রাজ্যের আপত্তি থাকার কথা নয়।
হাই কোর্টের এই নির্দেশে নির্যাতিতার পরিবারের প্রতিক্রিয়া, নতুন করে আশার আলো দেখা গেল। এই ঘটনায় একজন দোষী নয়। এবার হয়ত অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আসবে।
