তিনি অগ্নিকন্যা। টানা ১৫ বছর রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পদে। অথচ তাঁর জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ। টালির চালের বাড়িতে বাস। পায়ে হাওয়াই চটি। পরনে চাকচিক্যহীন সুতির শাড়ি। সেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার লড়ছেন ভবানীপুর থেকে। বুধবার কালীঘাট থেকে মিছিল করে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে যান। সেখানেই জমা দেন মনোনয়নপত্র। হলফনামায় তাঁর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দেন।
আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা মমতার। ৮ এপ্রিল, ২০২৬। ছবি: মমতার ফেসবুক পেজ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০৯ টাকা ৭১ পয়সা। কোনও অস্থাবর সম্পত্তি নেই তাঁর। ঋণও নেই ভবানীপুরের 'ঘরের মেয়ে'র।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে তাঁর আয় ২৩ লক্ষ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ২০ লক্ষ ৭২ হাজার ৭৪০ টাকা আয় করেছেন মমতা। ২০২১-২২অর্থবর্ষে আয়ের পরিমাণ ৩৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৪১০ টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে আয় হয়েছিল ১৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৪৫ টাকা।
হলফনামা জমা দেওয়ার সময় তাঁর হাতে নগদ অর্থ ছিল ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা। ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে মমতার। ওই অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১২ লক্ষ ৩৬ হাজার ২০৯ টাকা ৭১ পয়সা। নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করার টাকা রয়েছে ওই ব্যাঙ্কেরই আরও একটি অ্যাকাউন্টে। ওই অ্যাকাউন্টে মাত্র ৪০ হাজার টাকা রয়েছে। সবমিলিয়ে ব্যাঙ্কে রয়েছে ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০৯ টাকা ৭১ পয়সা।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৪০ হাজার ৬০০ টাকা টিডিএস হিসাবে ফেরত পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গয়নাগাটি রয়েছে কিছু। হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলার 'দিদি'র কাছে ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম সোনা রয়েছে। যার বাজারদর ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০৯ টাকা ৭১ পয়সা। নেই গাড়ি। কোনও অস্থাবর সম্পত্তিও নেই তাঁর। মমতার নামে নেই কোনও কৃষিজ কিংবা অকৃষিজ জমি। বসতবাড়িও নেই তাঁর নামে। কোনও লোনও নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
হলফনামায় স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি করে। পরীক্ষা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে ব্যাচেলার অফ ল পাশ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। কোনও ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিতও হননি তিনি।
