চলতি মাসের শুরুতেই আর জি কর (RG Kar Case) দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট পেশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট জমা পড়ে। কিন্তু সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় শুরু করা সম্ভব হল না পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া। আর জি কর আর্থিক দুর্নীতির মামলার শুনানিতে আজ সোমবার এমনটাই জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়লেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন রাজ্যের তরফে পাওয়া যায়নি। আর সেই কারণেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না বলেও নিম্ন আদালতে দাবি ইডির। আগামী ৭ মার্চ ফের এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
আর জি কর কাণ্ডের সময় সন্দীপের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইডির তদন্ত চেয়ে মামলা দায়ের করেন আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। যার ভিত্তিতে সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডিও তদন্ত শুরু করে। নিউটাউনে সন্দীপ ঘোষের পৈতৃক ভিটে, টালায় চন্দন লৌহের বাড়ি ও কালিন্দীর একটি ওষুধের দোকান-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। একে একে গ্রেপ্তার হন সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরারা। জানা যায়, ধৃত বিপ্লব ও সুমনরা ভেন্ডার ছিলেন। এই মামলায় শেষ গ্রেপ্তার সন্দীপের নিরাপত্তারক্ষী আফসার আলি। মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এই মামলায় আগেই চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই আর জি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেখানে নাম রয়েছে সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরাদের। আজ সোমবার মামলার পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সুন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে রাজ্যের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না আসায় তা এদিন সম্ভব হয়নি। বলে রাখা প্রয়োজন, কেউ যদি সরকারি কোনও পদে থাকেন তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়লে এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগোনোর জন্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে রাজ্যেও অনুমোদন প্রয়োজন। আর তা না মেলায় এদিনের মতো পিছিয়ে যায় বিচারপ্রক্রিয়া। আগামী ৭ মার্চ এই সংক্রান্ত মামলা কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর সবার।
