দমদম বিমানবন্দরের (Dumdum Airport) মসজিদে নমাজ পড়ার ডাক দিয়েছিলেন সিদিকুল্লা চৌধুরী। কোনওরকম উত্তেজনা যাতে না ছড়ায় সেজন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, জারি ১৬৩ ধারা। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় গিয়েও পিছু হটলেন এই নেতা। আজ, শুক্রবার কর্মসূচি হচ্ছে না, এমনই জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এয়ারপোর্ট চত্বরে গিয়েও ফিরে গেলেন তিনি! তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই বলেননি এই সংখ্যালঘু নেতা। এদিন এয়ারপোর্ট চত্বরে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তারপরেই তিনি কর্মসূচি থেকে পিছু হটলেন!
দমদম বিমানবন্দর থেকে বাঁকড়া মসজিদ সরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মসজিদের নমাজপাঠ ও যাতায়াত। এদিকে ওই মসজিদে নমাজ পাঠের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সিদিকুল্লা চৌধুরী। সেই নিয়ে আজ, শুক্রবার সকাল থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়। কলকাতা বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং তার আশেপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। বিধাননগর পুলিশ নিরাপত্তার জন্য গোটা এলাকা মুড়ে ফেলেছে। রাস্তায় মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাফ। রাখা হয়েছে জলকামান। গোটা পরিস্থিতিতে বিরাটি, বাঁকড়া এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
এলাকায় পুলিশের রুটমার্চ। নিজস্ব চিত্র
১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত। বিমানবন্দরের মধ্যেই ওই মসজিদ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ওই মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে চর্চা চলছিল। দমদম বিমানবন্দরে দুটি রানওয়ে রয়েছে। প্রধান (বড়) রানওয়েটি দিয়ে বিমান ওঠানামা হয়। দ্বিতীয় রানওয়েটি আকারে ছোট। ওই রানওয়েটির ঢিলছোড়া দূরত্বে এই মসজিদ রয়েছে। প্রথম রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকলে বড় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়, বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ওই মসজিদের কারণে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থাকে বলে মত বিমানবন্দরের আধিকারিকদের। দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে। বেশ কয়েক দশক ধরে ওই মসজিদ সরানো নিয়ে চর্চা, আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে কোনও স্থির সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি এতদিন। এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে দমদম বিমানবন্দর থেকে সরছে বাঁকড়া মসজিদ! ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে বিমানবন্দরের ভিতর দিয়ে মসজিদে ঢোকার জন্য এন্ট্রি পাস। বন্ধ হল মসজিদের ভিতর নমাজ পড়াও।
মোতায়েন বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিজস্ব চিত্র
আজ, শুক্রবার বিমানবন্দরের ওই মসজিদে নমাজ পড়ার কর্মসূচির ডাক দেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সেই কর্মসূচি বিষয়েই আগাম সতর্কতা নিয়েছিল বিধাননগর পুলিশ। যাতে কোনওরকম উত্তেজনা না ছড়ায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং তার আশেপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন রয়েছে এলাকায়। নিয়ে আসা হয় জলকামানও। ৭ নম্বর গেট ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহলদারিও চলছে। যাতে কোনওরকম জমায়েত না হয়, সেজন্য পুলিশের তরফে বার্তা দেওয়া চলে। বিমানবন্দরের যাত্রীদের উপর যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও নজর রেখেছে প্রশাসন।
