দুর্নীতিতে 'জিরো টলারেন্স' নীতি শুভেন্দু প্রশাসনের। রাজনীতির রং না দেখেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশকে বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই ফ্ল্যাট দখল করে থাকার অভিযোগ পাকড়াও নিউটাউনের বিজেপি নেতা। তাকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়ে উত্তেজিত জনতা।
ধৃত বিজেপি নেতা বরুণ বিশ্বাস। জানা গিয়েছে, নিউটাউনের বেশ প্রভাবশালী বিজেপি নেতা তিনি। ওই এলাকার একটি বিলাসবহুল আবাসনে বৃদ্ধার ফ্ল্যাট দখল করে বসবাসের অভিযোগ ছিল ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। বৃদ্ধা অনিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বরুণ বিশ্বাস ফ্ল্যাট নেন। রিনিউ করাও হয়। তবে মাসদুয়েক আগেই বিজেপি নেতাকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। তবে বিজেপি নেতা দাবি করেন তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। তাই কিছুটা সময় দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিজেপি নেতা প্রায় ৫ বছর সময় চান বলেই দাবি বৃদ্ধার। ইতিমধ্যে আর ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তিপত্র রিনিউ না হওয়ায় ভাড়া নেননি বলেই জানান বৃদ্ধা। ২০১৯ সালে মার্চ মাস থেকে আর এক পয়সাও ভাড়া পাননি বৃদ্ধা। বর্তমানে বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। ওই বৃদ্ধা সোসাইটিকে জানান। বিজেপি নেতাকে ঘর ছাড়ার কথা বলা হয়। তবে বিজেপি নেতা ঘর ছাড়েননি বলেই অভিযোগ।
এরপর বাধ্য হয়ে ওই বৃদ্ধা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেই দাবি। সেই সময় তৎকালীন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্য়ায়ের কাছে ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান বৃদ্ধার। তাতেও তাঁর সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি। ২০২০ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন। দিনের পর দিন মামলা চলছে। তবে শুনানিতে হাজিরা দিচ্ছেন না ভাড়াটিয়া। আপাতত ঝুলেই রয়েছে মামলা। তবে তা সত্ত্বেও মেনটেনেন্স চার্জ এবং পুরসভার কর দিতেই হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্ল্যাটে যান ওই বৃদ্ধা। বিজেপি নেতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জড়ো হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। স্থানীয়দের ওই বিজেপি নেতার উপর ডিম হামলা করে। কিল, চড়, ঘুষিও খান তিনি। বলে রাখা ভালো, ফ্ল্যাট দখল করে রাখার অভিযোগ তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিম হামলার শিকার হন তিনিও।
