কৃষ্ণকুমার দাস: এসআইআর শুনানিতে (SIR Hearing) এবার ডাক পেলেন তারকা জনপ্রতিনিধি, তৃণমূল সাংসদ দেব (Dev) ওরফে দীপক অধিকারী। তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মৌসুমী দাস। যদিও কবে তাঁদের শুনানিকেন্দ্রে হাজির হয়ে নথিপত্র দেখাতে হবে, সেই দিনক্ষণ জানা যায়নি এখনও। এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানির নোটিস পাওয়ার পর দেব বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে শাসকশিবিরের অভিযোগ, একজন ব্যস্ত অভিনেতা এবং একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা দেবকে এভাবে নোটিস পাঠানোর অর্থ নিতান্তই হেনস্তা করার মনোভাব।
দেবের আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘাটালে। সেখানেই তাঁর জন্ম। পরবর্তী সময়ে বাবার কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে গিয়ে থাকতে শুরু করেন দেব ও তাঁর পরিবার। অভিনয় সূত্রে অনেক পরে তিনি কলকাতায় এসে পাকাপাকি বসবাস শুরু করেছেন। দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি আবাসন তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। টলিউডের সুপারস্টার হওয়ার পাশাপাশি দেব এখন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নিজের জন্মস্থান ঘাটাল থেকে তিনবারের সাংসদ তিনি। নিজের কেরিয়ারের পাশাপাশি জনতার কাজও সমানতালে করে থাকেন দেব ওরফে দীপক অধিকারী। এহেন ব্যক্তিত্বকেও নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে, এমনই নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। শুধু দেবকে নয়, তাঁর পরিবারের তিনজনকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
টলি ইন্ডাস্ট্রি থেকে একা দেব নয়, এর আগে শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তিনিও পশ্চিম মেদিনীপুরের আদি বাসিন্দা। পরে কর্মসূত্রে সপরিবারে চলে আসেন কলকাতায়। অনির্বাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপের সময়ে ২০০২ সালের কোনও নথি দেননি। তাই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে, টালিগঞ্জের বাসিন্দা দুই অভিনেতা দম্পতি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাবণী সরকারও পেয়েছিলেন এসআইআর শুনানির নোটিস। সেইমতো তাঁরা সোমবার সকালে শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন। সেখান থেকে বেরিয়ে লাবণী সরকার জানান, ''এ তো সরকারের কাজ। আমাদের কোনও প্রশ্নও নেই, উত্তরও নেই। তবে আমরা এসেছিলাম। শুধু দুটো পেপারে ওঁরা আমাদের সই করিয়েছেন। আগের সইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে ছেড়ে দিয়েছেন।''
এতজন সেলেবকে এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠানো নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মৌসুমী দাস নির্বাচন কমিশনকেই দুষেছেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া, টলিউডের ব্যস্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এভাবে ডেকে পাঠানোর কোনও অর্থ নেই। অযথা হয়রানির মানসিকতা থেকে এসব নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
