সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বারবার মুখ পুড়লেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রাজ্যপাল তথা রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য সি ভি আনন্দ বোস। লোকভবন সূত্রের খবর অনুযায়ী, যে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত জট এখনও কাটেনি, সেগুলিতে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রাজ্যপাল।
রাজ্য ও রাজ্যপালের অনড় মনোভাবে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ করা যায়নি স্থায়ী উপাচার্য। যার জেরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পড়ুয়াদের। এই সমস্যা সমাধান করতে কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে বিষয়টি এসেছে সুপ্রিম কোর্টে। ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের নেতৃত্বে একটি সিলেকশন কমিটি তৈরি করে দিয়েছে আদালত। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তারা কয়েকজনের তালিকা তৈরি করেও পাঠিয়েছে রাজ্য, রাজ্যপাল-দুই পক্ষের কাছে। এদের মধ্যে ১৯টিতে ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল। বাকিগুলির ক্ষেত্রে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। এই আপত্তিকে আবার আমল দিতে নারাজ রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীকে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে কফির আসরে বসে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। যাকে সম্মান জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেও খোলেনি জট। পরবর্তীতে একাধিকবার দুই পক্ষের আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেলের দিল্লির বাসভবনে গিয়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছে আদালত। এতদিন আদালতে দুই তরফের আইনজীবীরা যা জানাচ্ছিলেন, তাতে মনে করা হচ্ছিল একটু একটু করে নরম হচ্ছে দুই পক্ষই। হয়তো কিছু সময়ের মধ্যেই হয়ে যাবে সমাধান। তবে রাজ্যপালের ঘনিষ্ঠমহল মারফত যা জানা গেল, তাতে এই সমস্যার সমাধান এখনই হচ্ছে না।
লোকভবনের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, নিজের অবস্থানে অনড় রাজ্যপাল। তাঁর বক্তব্য, কমিটির তৈরি করে দেওয়া তালিকায় এমন কিছু নাম আছে, যাঁরা উপাচার্যের মতো পবিত্র আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না। কারও বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, কারও বিরুদ্ধে আবার শ্লীলতাহানির অভিযোগ আছে। এই ব্যক্তিদের কিছুতেই উপাচার্য করতে রাজি নন রাজ্যপাল। এমনটাও শোনা যাচ্ছে, কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজ্যপালের কোন বিষয়ে আপত্তি, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে হলফনামা করে আদালতে জমাও দেওয়া হয়েছে। বুধবার, ৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলার শুনানি। সেদিনই রাজ্যপালের হলফনামা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
