ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদের সমর্থনে দিল্লিতে ধরনা করতে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আটক হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই লোকভবন (রাজভবন) ঘেরাওয়ের ডাক দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। মঙ্গলবার রাত ৮টায় এই কর্মসূচি করে কংগ্রেস। এদিন প্রথমে রাজভবনের সামনে জড়ো হন কংগ্রেস নেতা কর্মীরা। তারপর সেখানেই ধরনা অবস্থান করেন কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকার, দীপা দাশমুন্সিরা। পরে রাত ১০ টা নাগাদ অবস্থান তুলে নেন তাঁরা।
রাজভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়ে কংগ্রেসের তরফে দলের কর্মীদের জানানো হয়, "শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের দিল্লিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে সারা দেশের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও আজ রাতে কলকাতার রাজভবনের সামনে মোমবাতি মিছিল করে প্রতিবাদ করব। নেতৃত্ব দেবেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সব কংগ্রেস কর্মী রাত ৮ টায় রাজভবনের সামনে উপস্থিত হোন।"
সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে ছাত্র যুবদের মিছিল ঘিরে দিল্লিতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনা কর্মসূচি করে কংগ্রেস। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী- সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা-কর্মী। এছাড়াও সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদবকেও আটক করা হয়। রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে লোকভবনের সামনে ধরনা অবস্থান কর্মসূচি করল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তারপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে শুরু হয় মিছিল। সেখানে যোগ দেন অখিলেশও। এরপরই মোদির বাসভবনের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। নামানো হয় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। তোলেন স্লোগানও। ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দেখা করেন রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর আশ্বাসের পরও সারারাত মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। এরপরই বিক্ষোভকারীদের হটাতে তৎপর হয় দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। রাহুল, অখিলেশ, প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্যান্যদের তোলা হয় পুলিশের গাড়িতে।
