ফুটপাথে দুধ গরম বিতর্কে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার ওই শিশুকে কোলে নিয়ে সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতার দরবারে' যাওয়া মহিলাকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিলেন, ‘‘ফুটপাথে আর থাকতে হবে না। আমরা থাকার ব্যবস্থা করে দেব। নিশ্চিন্তে সেখানে থাকবেন।'' পুরসভাকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, দ্রুত তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে। এদিন তাঁদের সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যান বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথবাসী সীতাদেবী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘সীতাদেবী বাচ্চাকে নিয়ে আমার কাছে এখানে এসেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছি, আর ফুটপাথে থাকার দরকার নেই, আমরা ব্যবস্থা করে দেব। পুরসভাকে বলেছি। ওরা ব্যবস্থা করবে। উনি মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা করেন, রাজ্য সরকারের উপর ভরসা করেন বলে জানিয়েছেন আমাদের।''
তাঁকে বাসস্থান নিয়ে আশ্বস্ত করার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘সীতাদেবী বাচ্চাকে নিয়ে আমার কাছে এখানে এসেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছি, আর ফুটপাথে থাকার দরকার নেই, আমরা ব্যবস্থা করে দেব। পুরসভাকে বলেছি। ওরা ব্যবস্থা করবে।উনি মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা করেন, রাজ্য সরকারের উপর ভরসা করেন বলে জানিয়েছেন আমাদের।'' এপ্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বিগত দুই সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, ‘‘উনি (সীতাদেবী) কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। আমি জানিয়েছি, ফুটপাত থাকার জায়গা নয়। মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি সরকার সকলের জন্য কাজ করে। বামপন্থী, যাঁরা কবিতা-ছড়া লিখছে তাঁদের বলব, খোঁজ নেননি কেন? ৫০ বছর তো ছিল। সীতাদেবী এখানে এসে বলেছেন ভরসা মুখ্যমন্ত্রীকে করি।''
দিন কয়েক আগে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে নাতির জন্য দুধ গরম করছিলেন বৃদ্ধা সীতাদেবী। যে কোনও মুহূর্তে বিপদ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে সেই কাজে বাধা দেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তড়িঘড়ি দুধ গরম বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে প্রশ্ন করে জানতে পারেন, তাঁদের কোনও বাড়ি বা থাকার জায়গায় নেই।৫০ বছর ধরে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথই ঠিকানা। এই ভিডিও ভাইরাল হতে অনেকেই অগ্নিমিত্রা পালের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পালটা ভিডিও বার্তায় সোমবার অগ্নিমিত্রা বলেন, “কোনও বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। সরে যেতে বলা হয়েছে। অনাবশ্যক সমালোচনার কোনও কারণ নেই। হ্যাঁ, আমার হয়তো বুঝিয়ে বলা উচিৎ ছিল।”
সোমবার ফেসবুক লাইভে সেই ইস্যুতেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “একটা ছোট্ট দুধের শিশুর খাবার তৈরি করছিল, দরিদ্রকে ঘৃণা করবেন না দয়া করে। যে মা রাস্তার উপর বাচ্চার জন্য দুধ ফোটাচ্ছে, সে অসহায়। দুধটা ফেলে দিতে খারাপ লাগল না? মনে রাখবেন মায়ের অভিশাপ, বড় অভিশাপ।আমি এই পরিবারটার দায়িত্ব নিতে তৈরি। ওঁরা রাজি থাকলে, আমি কোনও কর্মীর বাড়িতে ওঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব। বাচ্চার পড়াশোনার দায়িত্বও নেব।” এই ইস্যুতেই মমতাকে একহাত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মীর বাড়ি কেন? নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখছেন না কেন? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এই প্রশ্ন করেছিলেন বর্তমান শাসক।আর আজ ওই পরিবারের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
