দিব্যেন্দু মজুমদার: ১২ মার্চ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। সে তোয়াক্কা না করেই বেশ জোরে টিভি চালাচ্ছিল পাড়ার একটি ক্লাব। আর তারই প্রতিবাদ করে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও তার বাবা-মার কপালে জুটল বেধড়ক মার।
[ ফিরল নির্ভয়া স্মৃতি, ধর্ষণের পর আদিবাসী তরুণীর উপর নারকীয় অত্যাচার ]
শনিবার রাত ১১ টায় ঘটনাটি ঘটে কোন্নগরের কানাইপুর চক্রবর্তী নগরে। দিনের বেলা সারাদিন গাড়িঘোড়ার আওয়াজ, হট্টগোলের মধ্যে ঠিক করে পড়াশোনায় মন বসানো যায় না। তাই খাওয়াদাওয়ার পরে প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও মাধ্যমিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল উত্তরপাড়া থানার কোন্নগর কানাইপুর চক্রবর্তী নগরের অর্কজিৎ দাস। এবছর মার্চে সে নবগ্রাম বিদ্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল বাড়ির পাশের শান্তি সংঘ ক্লাব। মাঝে মধ্যেই প্রচণ্ড চিৎকার আর তার সঙ্গে টিভির জোরাল আওয়াজ। স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনায় মন বসাতে পারছিল না অর্কজিৎ। তাই মা জয়ন্তী দাসকে নিয়ে ক্লাবে গিয়ে সদস্যদের টিভির আওয়াজ কম করতে বলাতেই রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ক্লাবের সদস্যরা। অভিযোগ, অর্কজিৎ ও জয়ন্তীদেবীর অভিযোগে আওয়াজ কমানো তো দূরের কথা উলটে টিভির আওয়াজ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে ক্লাবের ছেলেরা। জয়ন্তীদেবী এই অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় ক্লাবের ছেলেরা। অর্কজিৎ মাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও কিল-চড়-ঘুসি মারতে থাকে ছেলেরা। সে সময় অর্কজিতের বাবা আনন্দ দাস গিয়ে তাঁদের চলে আসতে বললে তাঁর উপরও ক্লাবের ছেলেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বেধড়ক মারধর করে। এরপর রাতেই আনন্দবাবু কানাইপুর ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে যান। কিন্তু ফাঁড়ির বড়বাবু না থাকায় সোমবার সকালে তিনি ক্লাবের ছেলেদের বিরুদ্ধে মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কানাইপুর ফাঁড়িতে।
[মর্মান্তিক! বাথরুমের জল ভরতি বালতিতে ডুবে মৃত্যু একরত্তির ]
অভিযোগ দায়েরের পরই ক্লাবের ছেলেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এদিন সকাল থেকেই ক্লাব বন্ধ। শ্রীরামপুর উত্তরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আচ্ছালাল যাদব বলেন এটা রীতিমতো গর্হিত অন্যায়। তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসন যাতে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তার জন্য আবেদন জানাবেন।
The post ক্লাবে বেজায় জোরে চলছে টিভি, প্রতিবাদে বেধড়ক মারধর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে appeared first on Sangbad Pratidin.
