সরকার গঠনের পরেই নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠকে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ ও সব দপ্তরের সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিরা ছিলেন। সেই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, তাঁকে খুশি করতে কথায় কথায় 'মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কোনও আধিকারিক ভুল করতে তাঁকে জবাব দিতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থের অপচয় যেন না হয় সেই বিষয়ে সচিবদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু।
বৈঠকে শুভেন্দু জানিয়েছেন, সকলের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগের জন্য একটি গ্রুপ তৈরি করা হবে। সম্ভবত হোয়াটস অ্যাপ বা ইমেলে এই গ্রুপ তৈরি হবে। সেখানে মুখ্যসচিব-সহ সব দপ্তরের সচিবরা থাকবেন। ওই গ্রুপে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। কোনও প্রয়োজন হলে মুখ্যসচিবকে জানানোর কথা বলেছেন শুভেন্দু। এছাড়া চাইলে তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল আমলে তাঁদের মধ্যে অনেকে অনেক ভুল করেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আধিকারিকদের হাতে কিছু ছিল না। কিন্তু অন্যায় দেখেও যাঁরা চুপ করে ছিলেন, তাঁদের তা করা উচিত হয়নি। কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সচিবদের তিনি স্পষ্ট করে দেন, এতদিন সচিবরা বেশিরভাগ সময়ই হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মিলিয়েছেন। কিন্তু এবার রাজ্যের উন্নয়নের জন্য সচিবদের স্পষ্ট মতামত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ চাইলে নির্দ্বিধায় নিজেদের পরামর্শ জানাতে পারবেন।
এতদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলি বন্ধ ছিল। সেগুলি অবিলম্বে চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। পাশাপাশি সংকল্প পত্রে যে সব প্রতিশ্রুতির কথা বিজেপি উল্লেখ করেছিল ধীরে ধীরে সেই কাজগুলি বাস্তবায়ন করতে সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, পূর্ববর্তী সরকারের মতো তিনি সরকারি অনুষ্ঠানে মিডিয়ার সামনে আধিকারিকদের বকাবকি করার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নন। কিন্তু কোনও কাজে কেউ ভুল করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককেই তার দায় নিতে হবে। খরচ করতে বাধা নেই, কিন্তু অর্থের অপচয় যেন না হয় তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী।
