shono
Advertisement

Breaking News

Suvendu Adhikari

পঙ্গু করে রেখেছিলেন মমতা, বিশ্বযুদ্ধ থেকে পাক লড়াইয়ে 'সফল' বাহিনীর গরিমা ফেরাবেন শুভেন্দু

মূলত গোর্খাদের নিয়োগ করা হয় ওই বাহিনীতে। দেশভাগের আগে দুই বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাকে সাহায্য করে ওই বাহিনী।
Published By: Subhajit MandalPosted: 08:30 PM Jun 17, 2026Updated: 08:57 PM Jun 17, 2026

২০১০ সাল। ১৫ ফেব্রুয়ারি। শিলদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে থাকা ইএফআর ক্যাম্পে আচমকা মাওবাদী হামলা। সেদিন ২৪ জন ইএফআর জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। পালটা জওয়ানরা পাঁচ মাও জঙ্গিকে খতম করে। সেই হামলা এবং ২৪ জওয়ানের মৃত্যু রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলকে রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। একই সঙ্গে ধুঁকতে থাকা ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসকে আরও দুর্বল করে। অবশ্য তার আগেই গৌরবময় অতীতের ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস 'স্বাধীনতা' হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটা ছোট্ট অংশে পরিণত হয়েছে।

Advertisement

ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস প্রতিষ্ঠা করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। মূলত গোর্খাদের নিয়োগ করা হয় ওই বাহিনীতে। দেশভাগের আগে দুই বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাকে সাহায্য করে ইএফআর। দেশভাগের সময় ইএফআরও আড়াআড়ি ভাগ হয়।

পরবর্তীকালে রাজ্যের শাসকদল বদলেছে। কিন্তু হাল ফেরেনি ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের। মমতার আমলে আরও অযত্নে ধুঁকছে ওই ইএফআর। বাম আমলে ওই বাহিনীকে মূলত মাও দমনের কাজে ব্যবহার করা হত। তৃণমূল জমানায় মাও-উৎপাত অনেকটা কমে যাওয়ায় দরকার ফুরোয় ইএফআরের। ফলে ওই বাহিনীর উন্নতির কথা ভাবেননি মমতা। অথচ এই ইএফআরের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে।

ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস প্রতিষ্ঠা করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। মূলত গোর্খাদের নিয়োগ করা হয় ওই বাহিনীতে। দেশভাগের আগে দুই বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাকে সাহায্য করে ইএফআর। দেশভাগের সময় ইএফআরও আড়াআড়ি ভাগ হয়। বাহিনীর একটা বড় অংশ চলে যায় পূর্ব পাকিস্তানে।পরে ১৯৬৫ এবং একাত্তরের ভারত-পাক যুদ্ধে ভারতের ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে ওঠে ইএফআর। পরে মাও দমনেও বিরাট ভূমিকা ছিল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের। কিন্তু বর্তমানে এই বাহিনী ধুঁকছে। এটি এখন রাজ্য পুলিশের উপেক্ষিত শাখা। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দার্জিলিংয়ে গিয়ে ঘোষণা করে এসেছেন ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসকে পুনরুজ্জীবিত করবেন তিনি। শুভেন্দু কার্শিয়ংয়ের সভায় গিয়ে বলেন, "আগামী কয়েক সপ্তাহে ইএফআরে ১০০০ যুবক-যুবতী চাকরি পাবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার নিশ্চিত করবে যে ওই চাকরির ৩০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।"

শুভেন্দু মূলত গোর্খাদের কর্মসংস্থানের জন্য ওই বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার দাবি, অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলেও তিনি ইএফআরের গৌরব ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের তরফে সাড়া মেলেনি। এবার শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য। শোনা যাচ্ছে, ইএফআরকে পুনরুজ্জীবিত করে বাংলাদেশ সীমান্তে ব্যবহার করা হতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement