টাকার বিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে নিয়ে কুরুচিকর ও মানহানিকর ভিডিও বানানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ভিডিওটিতে রাজ্য বিজেপির একাধিক মহিলা নেত্রীকে নিয়ে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ভিডিও নিয়ে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল মামলা দায়ের করেন। ধৃতকে ২৭ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ধৃতের নাম রাজেশ চক্রবর্তী। তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরে। বর্তমানে তিনি নিউটাউনে থাকেন। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার-সহ বিজেপির মহিলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওই ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়। ভিডিওতে বেহালার বাসিন্দা পার্থ নাগকে দেখা গিয়েছে। কয়েক বছর আগে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি আপলোড করেছিলেন। পরে তা মুছে ফেলেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ফের কয়েকজন সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলেন। এরপরেই বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল এই নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালে রাজেশ তাঁকে ওই ভিডিওটি তৈরি করে আপলোড করতে বলেছিলেন। এর জন্য ইউপিআই মারফত এবং নগদেও পার্থকে টাকা দিয়েছিলেন। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ভিডিওটি ডিলিট করে দেন পার্থ। তদন্তে উঠে এসেছে, পার্থ 'কলকাতা ডিজিটাল যোদ্ধা' নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। পরে রাজেশকে তলব করে পুলিশ। প্রথম নোটিসে পেয়েও হাজির হননি তিনি। পরে দ্বিতীয় নোটিস পাওয়ার পর হাজিরা দিলেও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। ইউপিআই লেনদেন ও ভিডিও সংক্রান্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দেননি তিনি। এমনকী পার্থ নাগের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ডিলিট করেছেন রাজেশ। সেই কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
