২০২৬ সালের এপ্রিলে বয়স পঁয়ষট্টি পেরিয়েছে। ডেন্টাল কমিশনের নিয়ম অগ্রাহ্য করে তাও বসে ছিলেন আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের (R. Ahmed Dental College) অধ্যক্ষ পদে। সরিয়ে দেওয়া হল আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজে পুনর্নিয়োগে থাকা সেই অধ্যক্ষ ডা. তপনকুমার গিরিকে। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসককে। সার্কুলার জারি হয়েছে তেমনই।
সূত্রের খবর, বিগত তৃণমূল আমলে ডা. তপনকুমার গিরি এবং তাঁর কন্যা ডা. দেবান্তি গিরি প্রভাব খাটিয়ে 'পোস্টিং' নিয়েছিলেন আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজে। ডা. অমিতকুমার বেরা জানিয়েছেন, কলকাতার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করে ডা. দেবান্তি গিরি যখন পশ্চিমবঙ্গ ডেন্টাল এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দেন এবং আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজে পোস্টিং পান তখন সেখানকার অধ্যক্ষ তাঁর বাবা ডা. তপনকুমার গিরি। স্বজনপোষণ যে হয়েছে এই তথ্যই তার প্রমাণ।
এমনকী অধিকাংশ চিকিৎসককে যখন দূর দূরান্তে বদলি করা হচ্ছিল সেখানে ২০১৮ সালে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ থেকে ঢিল-ছোড়া দূরত্বে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয় ডা. দেবান্তি গিরিকে। সেটাও থাকেনি বেশিদিন। ফের আরও একটি বদলির নির্দেশিকা জারি করে তাঁকে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজে ফিরিয়ে আনা হয়। চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে এই নির্দেশিকাটি স্বাস্থ্য ভবনের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ডা. তপনকুমার গিরি জোর করে বিভিন্ন বিভাগের স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের ওরাল মেডিসিন ও রেডিওলজি সম্পর্কিত থিসিস বিষয় নিতে বাধ্য করতেন। যাতে তাঁর কন্যাকে বিভিন্ন বিভাগের গবেষণাপত্রে কো-গাইড হিসাবে যুক্ত করা যায়। এবার 'বিতর্কিত' সেই অধ্যক্ষকে সরিয়ে দিল নতুন রাজ্য সরকার।
