shono
Advertisement
Taratala Disaster

যুদ্ধকালীন তৎপরতা! অত্যাধুনিক 'অস্ত্রে' সজ্জিত সেনার উদ্ধারকাজ দেখল তারাতলা

ভার্টিক্যাল ড্রিল দিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গর্তে দড়ি দিয়ে নিচে নেমে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে সেনা। ড্রোন উড়িয়ে দেখা হয় ধ্বংসস্তূপের খুঁটিনাটি।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 07:20 PM Jun 24, 2026Updated: 08:53 PM Jun 24, 2026

বহু বিপর্যয় দেখেছে শহর কলকাতা। একেকটা দুর্ঘটনার ক্ষত অনেকদিন থেকে গিয়েছে তিলোত্তমার বুকে। বুধবার, ২৪ জুন শহরবাসী সাক্ষী রইল আরও এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের। তারাতলায় নির্মীয়মাণ তিনতলা বাণিজ্যিক ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে লোহার বিম, সিমেন্টের চাঁই যে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ল, সে দৃশ্য মনে করলে শিউরে উঠবেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা পাঁচ হলেও তা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। তবে এই পরিস্থিতিতে যা ব্যতিক্রমী, তা হল উদ্ধারকাজ। এতদিন শহরে বড় বিপর্যয় ঘটলে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেনার সাহায্য নেওয়া ছিল দূরঅস্ত। কিন্তু বুধবার তারাতলায় দ্রুত নেমে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি না সামলালে আরও বাড়ত মৃতের সংখ্যা। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এমন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিপর্যয় মোকাবিলার নজির দেখেনি কলকাতাবাসী।

Advertisement

ভার্টিক্যাল ড্রিল মেশিন, অ্যাঙ্গেল কাটার, ডায়মন্ড টেন স, এয়ার প্লাজমা কাটিং মেশিন, কর্ডলেস হ্যামার - আরও কত কী! এমন সব যন্ত্রপাতির নামও শোনা যায়নি। এছাড়া ক্রেন তো ছিলই। একা সেনা নয়, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, এনডিআরএফ, দমকল, পুলিশ - হাতে হাত মিলিয়ে সকলে রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়েন।

ভার্টিক্যাল ড্রিল মেশিন, অ্যাঙ্গেল কাটার, ডায়মন্ড টেন স, এয়ার প্লাজমা কাটিং মেশিন, কর্ডলেস হ্যামার - আরও কত কী! এমন সব যন্ত্রপাতির নামও শোনা যায়নি। এছাড়া ক্রেন তো ছিলই। একা সেনা নয়, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, এনডিআরএফ, দমকল, পুলিশ - হাতে হাত মিলিয়ে সকলে রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়েন। জানা যাচ্ছে, দুপুর আড়াইটে নাগাদ রাজ্য সরকারের তরফে সেনার নামানোর আবেদন জানানো হলে বিহার রেজিমেন্ট থেকে শতাধিক সেনাকে পাঠানো হয়।

সন্ধ্যায় আলো জ্বালিয়ে উদ্ধারকাজ চলে। ছবি: শুভজিৎ মুখোপাধ্যায়

প্রথমে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার বিম কেটে আটকে থাকা লোকজনকে বের করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গতি আসে উদ্ধারকাজে। ভেঙে পড়া কাঠামোকে সরিয়ে সেখান ২টি পেল্লাই ক্রেন লাগানো হয়। যার মাধ্যমে ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কিনা, তা সহজে দেখা যায়। অন্যদিকে, ভার্টিক্যাল ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত করে দড়ি বেয়ে নিচে নেমেও সেনা উদ্ধারে তৎপর হয়। বাইরে থেকে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের উদ্ধারের পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়, ভিতরে কেউ আটকে থাকলে সাড়া দিতে, সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বের করার ব্যবস্থা হবে। সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত মোট ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ২০ জনের মধ্যে দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনও ১২ জনের কাছাকাছি আটকে বলে খবর। আলো জ্বালিয়ে তাঁদের উদ্ধারকাজ চলছে। 

আসলে যে কোনও রাজ্যে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তা সামলাতে সেনাবাহিনীর সাহায্য নেওয়া স্বাভাবিক। তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোরই অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল সরকারের আমলে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সেনাকে উদ্ধারকাজে ডাকার ঘোর বিরোধী ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই একেকটি বিপর্যয় সামলাতে সময় লাগত অনেকটা।

রাতেও কাজ করেছে সেনাবাহিনী। ছবি: সুমন দাস

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, যত বড় বিপর্যয় ঘটেছিল, সেই তুলনায় অনেক দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আসলে যে কোনও রাজ্যে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তা সামলাতে সেনাবাহিনীর সাহায্য নেওয়া স্বাভাবিক। তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোরই অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল সরকারের আমলে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সেনাকে উদ্ধারকাজে ডাকার ঘোর বিরোধী ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তাই একেকটি বিপর্যয় সামলাতে সময় লাগত অনেকটা।

বুধবার দুর্ঘটনার পর সাংবাদিক বৈঠকে তা নিয়ে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ। আমরা দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাদের ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলাম। একঘণ্টার মধ্যে  তারা বাহিনী পাঠিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কলকাতায় সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকা অফিসার খুব সাহায্য করেছেন। আগে তো সেনাকে কাজে লাগানো হতো না। এখন আমরা এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সেনার সাহায্য নিয়েছি।'' দ্রুত উদ্ধারকাজ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement