shono
Advertisement
Taratala Disaster

দালালের রেট ২৫০! গুদাম তৈরির অনুমোদনে দেদার 'দুর্নীতি', তারাতলা-তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তারাতলার ভেঙে পড়া গুদামের অনুমোদন পাশ করাতে মালিকের থেকে বেশি টাকাই নিয়েছিলেন অভিযুক্ত 'মিডলম্যান' আবদুূল হামিদ!
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:33 AM Jun 30, 2026Updated: 09:33 AM Jun 30, 2026

গুদাম নির্মাণে পুরসভার অনুমোদনের জন্য দালালের রেট ছিল প্রতি বর্গফুট ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের। ইতিমধ্যেই যে দালাল তারাতলার 'অভিশপ্ত' গুদাম নির্মাণের অনুমোদন পাশ করানোর ব্যবস্থা করেছিল, সেই আবদুল হামিদকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে। তিনি গোডাউন মালিক সংস্থার কাছ থেকে বর্গফুট প্রতি ২০০ টাকার অনেক বেশিই নিয়েছিল বলে পুলিশের কাছে খবর। এই ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হতে হামিদকে জেরা করছেন সিট সদস্যরা।

Advertisement

এদিকে, গোয়েন্দাদের কাছে খবর, গোডাউন প্ল্যান অনুমোদনের জন্য পুরসভা ছাড়াও দমকলের অনুমতি আবশ্যিক। এই ক্ষেত্রে যে কমিটির অনুমতি প্রয়োজন, তাতে মেয়র ও দমকলের কর্তারা থাকেন। দমকলমন্ত্রীরও অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই গোডাউন তৈরির জন্য দমকলের অনুমতি আদৌ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে লালবাজারের সিট।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দালালদের হাত থেকেই প্ল্যান অনুমোদনের জন্য যেত পুরসভায়। বাকি বিষয়গুলি প্রাক্তন মেয়রের আপ্ত সহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেন। লালবাজার জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই কালীচরণের হাওড়ার শিবপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু'টি মোবাইল ছাড়াও আরও বেশ কিছু নথি ও রেজিস্টার উদ্ধার হয়েছে। কালীচরণের ব্যাঙ্কের নথিও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। কাদের সঙ্গে তাঁর টাকার লেনদেন হয়েছিল, তা দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কমিটির কোনও বৈঠকও বিশেষ হত না। এই ক্ষেত্রে দালালদের হাত থেকেই প্ল্যান অনুমোদনের জন্য যেত পুরসভায়। বাকি বিষয়গুলি প্রাক্তন মেয়রের আপ্ত সহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেন। লালবাজার জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই কালীচরণের হাওড়ার শিবপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু'টি মোবাইল ছাড়াও আরও বেশ কিছু নথি ও রেজিস্টার উদ্ধার হয়েছে। কালীচরণের ব্যাঙ্কের নথিও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। কাদের সঙ্গে তাঁর টাকার লেনদেন হয়েছিল, তা দেখা হচ্ছে। তবে কালীচরণ ও ঠিকাদার সংস্থা আয়ান ট্রেডার্সের ম্যানেজার গুলজারের বক্তব্যে বহু অসঙ্গতি রয়েছে। কতদিনের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল, তার জন্য কোনও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেই তথ্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন।

তারাতলায় এখন শুধুই ভাঙাচোরা কংক্রিট, শনিবার দুপুরে। নিজস্ব ছবি

তারাতলায় নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনটি ধসে ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত ৬ জন ছাড়াও আরও পাঁচজনকে তলব করে জেরা করেছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুরসভার দুই 'এলবিএস'ও। এছাড়াও পুরসভার আরও কয়েকজন কর্তা পুলিশের নজরে। লালবাজারের এক কর্তা জানান, তারাতলার গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যান ও অনুমোদিত প্ল্যানের জন্য কলকাতা পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গোডাউনের মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট হয়েছিল কি না, তা জানতে লালবাজার বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে।

সোমবার গোডাউনের মালিক বেহরা ব্রাদার্সের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছে সিট। গুদামটি নির্মাণে কতজন কাজ করছিলেন, সেই ব্যাপারে কোনও নথি বা খাতা রাখা হত না। কর্মীদের তালিকাও তৈরি করা হয়নি। তবে এই ঘটনায় আহতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, প্রায় ৩০ জনের মতো কর্মী ভিতরে ছিলেন। সেই ক্ষেত্রে ৩৩ জনের হদিশ মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement