shono
Advertisement
Suvendu Adhikari

আপাতত বন্ধ নির্মাণ, স্ক্যানারে তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া বিল্ডিং প্ল্যান, তারাতলা বিপর্যয়ে 'অ্যাকশন' শুভেন্দুর

বুধবার তারাতলার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর 'অ্যাকশন' মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
Published By: Sayani SenPosted: 05:46 PM Jun 24, 2026Updated: 07:34 PM Jun 24, 2026

তৃণমূলের আমলে পাশ হওয়া নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ইমারত তৈরি আপাতত বন্ধ। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই নির্মীয়মাণ ইমারতগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হবে। ছাড়পত্র মিললে তবেই ফের শুরু হবে নির্মাণকাজ। বুধবার তারাতলার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর 'অ্যাকশন' মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, "কলকাতা পুর এলাকায় বাণিজ্যিক, জলাশয় বুঝিয়ে হওয়া নির্মাণগুলি আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে। পিডব্লুডি, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ আর পুরসভা, দমকলের নেতৃত্বে একটি অডিট টিম গড়ে দেওয়া হবে। ওই টিম বিল্ডিং প্ল্যান, এলাকা পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত নেবে অনুমোদন ত্রুটিযুক্ত কিনা। তারপরই ফের শুরু হবে কাজ।" তবে হাসপাতাল, দমকল, মেট্রো, সেনা যেখানে কাজ করছে সেই জায়গাগুলি নির্মাণ বন্ধের আওতাধীন নয়। তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ের আসল কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ। তবে প্রাথমিকভাবে কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, ত্রুটিপূর্ণ নকশার জেরেই ভেঙে পড়েছে নির্মীয়মান গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজটি। সে কারণেই তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া বিল্ডিংয়ের নকশা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বহুতলের নকশার অনুমোদন দেয় পুরসভা। মাত্র ৫ মাসের মাথায় বুধবার ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তারাতলার তিনতলাক গুদাম। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পাওয়া মাত্রই একের পর এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উদ্ধারকাজের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উদ্ধারকাজে সেনার সাহায্য নেওয়া হবে। সেই মতো তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনা। দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় কাজ। ভার্টিকাল ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কে, কোথায় আটকে রয়েছেন তার হদিশ পেতে ড্রোন উড়িয়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। নামানো হয়েছে দু'টি স্নিফার ডগও।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে মোট ৩ জনের। তাঁরা হলেন বছর চল্লিশের রোহিত চৌধুরী, বছর তিরিশের কৃষ্ণ চৌধুরী এবং আরেকজনের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে মোট ১৮ জনকে। মোট ২০টি অ্যাম্বুল্যান্স উদ্ধার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারাতলা থেকে আহতদের উদ্ধারের পর গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে আপাতত চিকিৎসাধীন মোট ৮ জন। তাঁরা হলেন দুর্বাশা মাল্লান, মণিচাঁদ কুমার, শাহিদ কুমার, রাজেশ রুইদাস, বিশ্ব প্রকাশ, বোদন মুণ্ডা, রাজেন্দ্র রাও, রামপ্রসাদ চৌধুরী। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এসএসকেএমে জখমদের চিকিৎসার দিকে নজর রেখেছেন। বিপর্যয়স্থলেও খোলা হয়েছে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প। সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দেবেন বলে জানান।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement