বিধানসভায় বিরোধী দলনেতাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে এখনও জট কাটেনি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর খোলা না হলে, বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ১২ টা থেকে এক ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় পেরোতেই বিধানসভার ভিতরে ধরনায় বসেন তৃণমূলের বিধায়করা। বিরোধী দলনেতার বন্ধ ঘরের সামনে লবিতেই বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৮ বিধায়ক।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রেজোল্যুশন চেয়েছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনীথ বসু। প্রথমে খানিকটা টালবাহানা করলেও পরে মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বৈঠকের পর বিধানসভায় রেজোল্যুশন জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরেও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে এদিনও উত্তপ্ত বিধানসভা চত্বর।
প্রসঙ্গত, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে কয়েকদিন আগে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই চিঠি পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় বিধানসভার সচিবালয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, নিয়মানুযায়ী পরিষদীয় দলকে চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিষদীয় দলের বৈঠকের রেজোলিউশন জমা দিতে হবে। দলের কোনও নেতার ঘোষণা গ্রাহ্য হবে না। তৃণমূল সেই নিয়ম অমান্য করেছে। এরপরেই বৈঠকে বসে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করে তৃণমূল পরিষদীয় দল। কিন্তু, দিন কয়েক আগে বালিগঞ্জের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে এখনও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেয়নি বিধানসভা। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বসার ঘরও তালাবন্ধ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের সই করা রেজুলেশন চাইছেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। কিন্তু, সেরকম কোনও নিয়ম নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে, বিধানসভার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানেনি তৃণমূল কংগ্রেস। কোনও রেজুলেশন কপি তারা পাঠায়নি, কতজন বিধায়কের সমর্থনে শোভনদেব বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার কোনও উল্লেখ ছিল না। তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি বিধানসভা কর্তৃপক্ষ পুরনো সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, যদি বিরোধী দলনেতার ঘর খোলা না হয়, তাহলে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক।
