দীর্ঘ সময় ধরে চলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অল স্টেক হোল্ডারের বৈঠক। আর সেই বৈঠক শেষে বাইরে বেরনোর সময় গেটের সামনেই পড়ে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। ঘটনায় তাঁর চোটও লেগেছে। কিন্তু কীভাবে পড়ে গেলেন উপাচার্য? নিরাপত্তারক্ষীদের দাবি, বৈঠক শেষে পড়ুয়াদের ধাক্কাধাক্কি চলছিল গেটের কাছে। গেটের সামনে বাম ছাত্র সংগঠনের একদল সদস্য বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেই বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কিতেই পড়ে গিয়েছেন তিনি। যদিও সেই দাবি মানতে চাননি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। উপাচার্য 'নাটক' করছেন, পালটা দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। কোনও ছাত্রছাত্রীই উপাচার্যকে আঘাত করেননি বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।
সোমবার রাত ৯টার পর এই ঘটনায় নতুন করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা ছড়ায়। তবে বড় কোনও গোলমাল দেখা দেয়নি। পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এদিন রাত পর্যন্ত উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্যও করা হয়নি। গত বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই ও আরএসএস ছাত্র সংগঠন এবিভিপির মধ্যে বিবাদ হয়। বৃহস্পতিবারও দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র বিবাদ, হাতাহাতি হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনা থেকেই নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা রয়েছে।
সেই আবহে আজ, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অল স্টেক হোল্ডার বৈঠক ছিল। দুপুর তিনটের পর ওই বৈঠক শুরু হয়। রাত অবধি সেই বৈঠক চলেছিল। সেখানে মূলত চার দফা দাবি নিয়ে পড়ুয়ারা উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকে একাধিক সংগঠনের ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরু থেকেই চলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। শুরুতেই ওয়াকআউট করেন এবিভিপির প্রতিনিধি। বিভিন্ন কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ছাত্র প্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম গাওয়া এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও তোলা হয়। অভিযোগ, উপাচার্য সব কথা শুনতে চাননি।
একসময় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাম, অতিবাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। রাত ন'টার সময় সেই বিক্ষোভের মুখে আটকে যান উপাচার্য। এরপর সামনে এগিয়ে গাড়িতে ওঠার আগে তিনি পড়ে যান। এসএফআইয়ের সদস্য অঞ্জিল বলেন, "আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তিনি আমাদের কথা অর্ধেক শুনেই হঠাৎ করে বেরিয়ে যেতে চাইলেন। আমরা সেসময় আটকাতে যাই। আমাদের কথা আমরা ওঁকে বলছিলাম।"
পড়ুয়া ইন্দ্রানুজ রায় বলেন, "আজকের ঘটনার পর উপাচার্য তথা কর্তৃপক্ষের উপর আমাদের আর ভরসা রইল না।" তিনি আরও বলেছেন, "কর্তৃপক্ষের দাবি সব জায়গায় সিসিটিভি চলছে। তাহলে সেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হোক। দেখা যাবে যখন উপাচার্য বেরোচ্ছিলেন তখন তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা পড়ুয়াদেরকে ধাক্কা দিতে দিতে বের করছিলেন। তারপর হঠাৎ করে উপাচার্য পড়ে গেলেন।" ঘটনা নিয়ে ক্যাম্পাসে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
