shono
Advertisement
High Court

জমি যেতে পারে ওপার বাংলায়! সীমান্তে কাঁটাতারের সীমারেখায় আপত্তি, হাই কোর্টে গ্রামবাসী

তাঁদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজ দূরে ফেন্সিং করার কথা থাকলেও কিছু এলাকায় তার চেয়ে অনেক বেশি ভিতরে বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, তাঁরা সীমান্তে ফেন্সিং নির্মাণের বিরোধী নন। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজ দূরে বেড়া নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
Published By: Subhankar PatraPosted: 10:08 AM Jun 14, 2026Updated: 10:33 AM Jun 14, 2026

রাজ্যে পালাবদলের পরই আন্তর্জাতিক সুরক্ষার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজে দ্রুত অগ্রগতি আনতে চাইছে প্রশাসন। এরই মধ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুরে কাঁটাতার বসানো ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে যার আঁচ পড়তে চলেছে কলকাতা হাই কোর্টেও

Advertisement

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব দপ্তর সম্প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি জরিপের কাজ শুরু করেছে। কৈজুড়ি থেকে আরশিকারি পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার খোলা সীমান্তে ফেন্সিং নির্মাণের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে জমি জরিপের কাজ শুরু হলেও সম্ভাব্য ফেন্সিংয়ের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজ দূরে ফেন্সিং করার কথা থাকলেও কিছু এলাকায় তার চেয়ে অনেক বেশি ভিতরে বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের অনেকের বসতবাটি, জমি ওপার বাংলার ভূখণ্ডে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরশিকারি, পদ্মবিলা, দোহারকান্দা, হাকিমপুর ও তারালি-সহ একাধিক সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত ফেন্সিংয়ের ফলে স্কুল, মন্দির, মসজিদ, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি বেড়ার বাইরে চলে যেতে পারে। এতে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তাঁদের দাবি।

মাসকয়েক আগে বিডিওর সঙ্গে আলোচনায় এ নিয়ে কোনও সমাধান সূত্র না মেলায় গ্রামবাসীদের একাংশ এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে খবর। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের প্রস্তাবিত ফেন্সিং পরিকল্পনার ফলে সাধারণ মানুষের বসতভিটে, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ জনপরিষেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, তাঁরা সীমান্তে ফেন্সিং নির্মাণের বিরোধী নন। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করেন তাঁরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজ দূরে বেড়া নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এলাকাবাসীদের দাবি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে সীমান্ত এলাকায় এখন চর্চা তুঙ্গে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement